প্রিন্ট এর তারিখঃ জানুয়ারী ২৫, ২০২৬, ৯:২৬ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ নভেম্বর ১১, ২০২০, ১০:১৪ অপরাহ্ণ
কলাপাড়ায় খাদ্য সামগ্রী ও নগদ টাকা নিয়ে রুমিনার বাড়ি হাজির দুই যুবক

আপন নিউজ রিপোর্টঃ
কলাপাড়ায় রুবিনার পরিবারের জন্য খাদ্য ও নগদ টাকা নিয়ে বাড়ি হাজির এক ব্যবসায়ী ও হোটেল কর্মচারী।
বুধবার (১১ নভেম্বর) বিকেলে রুবিনার পরিবারের হাতে ওই নগদ অর্থ ও খাদ্য সামগ্রী তুলে দেন কলাপাড়া পৌর শহরের লঞ্চঘাট কালাম হোটেলের বয় মিন্টু ও ব্যাবসায়ী মেহেদী হাসান।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, কলাপাড়া সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক এস এম আলমগীর হোসেন ও আন্ধারমানিক পত্রিকার সম্পাদক মো. হাসান পারভেজ।
উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামে বসত রুবিনা ও সাত বছর ধরে শিকলবন্দী মানসিক ভারসাম্যহীন মা ডলি বেগম। সত্তোরোর্ধ বৃদ্ধা নানী আছিয়া বেগম ও পঞ্চাশোর্ধ মানসিক ভারসাম্যহীন খাল ফাতেমা।
রুবিনা ভোরের আলো ফুটতেই মাকে গাছের সাথে শিকলে বেঁধে, খালাকে ঘরে আটকে বৃদ্ধা নানীকে সঙ্গে নিয়ে কখনও এ গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে দু’মুঠো ভাতের জন্য, কখনও মা-খালার চিকিৎসার টাকা জোগাড়ের জন্য। রুবিনার জন্মের আগেই তার বাবা নিরুদ্দেশ। শীতের কুয়াশার মত তার ভবিষ্যৎ ধোঁয়াশা হলেও পিতার আদর স্নেহ থেকে বঞ্চিত রুবিনাকেই সামলাতে হচ্ছে তার পরিবারকে।
উল্লেখ্য, একাত্তর টেলিভিশনের কলাপাড়া প্রতিনিধি মিলন কর্মকার রাজুর প্রতিবেদক নয় বছরের রুবিনার ভবিষৎ এখন কুয়াশার মতো ধোঁয়াশা। পলিথিন ও তালপাতার ছোট্র ঝুপড়ি ঘর তার। এই ঘরে শুয়ে চাঁদের আলো, বৃষ্টির প্রথম স্পর্শ তাকে উপভোগ করতে হয় প্রতিরাতেই। আর বিদ্যুত না থাকায় অমাবশ্যার অন্ধকার তার নিত্য সঙ্গী।
সেই ঘরে শিকল বন্দী তার মা, মানসিক ভারসাম্যহীন খালা ও সত্তোরোর্ধ নানীকে নিয়ে রুবিনার সংসার। ঘর নেই। জন্মের পর বাবার মুখ দেখেনি। সে টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছে না মা ও খালাও। কেউ কি নেই রুবিনার পাশে দাড়ানোর। এই শীতে ওদের ঘর দরকার। ঘুমানোর লেপ, তোষক দরকার। কিন্তু যেখানে দুমুঠো ভাতের জন্য তাকে সংগ্রাম করতে হচ্ছে সেখানে এতো কিছু কীভাবে সে সংগ্রহ করবে। ওই প্রতিবেদক দেখে এই যুবকেরা নিজের অর্থ দিয়ে তাদেরকে খাদ্য ও নগদ টাকা দিয়ে আসেন।
Copyright © 2026 আপন নিউজ. All rights reserved.