আমতলী প্রতিনিধিঃ
আমতলীতে ভন্ড ফকিরের প্রেমের ফাঁদে পড়ে এক কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পটুয়াখালী র্যাব-৮ সদস্যরা শনিবার সন্ধ্যায় ধর্ষক ভন্ড ফকির মানসুরকে গ্রেফতার করে আমতলী থানায় সোপর্দ করেছে। রবিবার তাকে পুলিশ আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করেছে। আদালতের বিচারক মোঃ সাকিব হোসেন তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
জানাগেছে, উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নে কুলইরচর গ্রামের আব্দুর রব সিকদারের ছেলে মানসুর দীর্ঘদিন ধরে এলাকার ভন্ড ফকির সেজে মানুষের সাথে প্রতারনা করে আসছিল। মানসুর এ বছর ফেব্রুয়ারী মাসে পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলার নলুয়াবাগি গ্রামের ধর্ষণের শিকার কিশোরীর মায়ের তদবিরের নামে কিশোরীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে। গত ২৮ মার্চ ধর্ষক মানসুর ওই কিশোরীকে কৌশলে ভুল বুঝিয়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ভন্ড ফকিরের এক আত্মীয়ের বাড়ীতে দুই দিন আটকে রেখে ধর্ষণ করে। এরপর থেকে প্রায়ই ওই কিশোরীকে আমতলী ভন্ড ফকিরের আত্মীয় সোবহানের বাসায় এনে কয়েকবার ধর্ষণ করেছে। গত ১৬ নভেম্বর একইভাবে আমতলী তার ওই আত্মীয়রের বাসায় এনে দুইদিন আটকে রেখে ধর্ষণ করে। কিশোরী ভন্ড ফকিরের প্রতারনা বুঝতে পেরে পালিয়ে যায়। গত ২০ নভেম্বর কিশোরী এ ঘটনা পটুয়াখালী র্যাব-৮ ক্যাম্পে জানায়। শনিবার সন্ধ্যায় র্যাব-৮ সদস্যরা অভিযান চালিয়ে ভন্ড ফকির মানসুরকে আমতলী পৌর শহরের মাজার রোড থেকে গ্রেফতার করে। এ ঘটনায় কিশোরীর বড় বোন বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছে। বরিবার পুলিশ তাকে আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করেছে। আদালতের বিচারক মোঃ সাকির হোসেন ধর্ষণ মানুসরকে বরগুনা জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এদিকে ধর্ষণের শিকার ওই কিশোরীকে পুলিশ বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ডাক্তারী পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে। ওই কিশোরী আমতলী আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।
আমতলী থানার এসআই মোঃ মিলন মিয়া বলেন, কিশোরীর ডাক্তারী পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে। আমতলী থানার ওসি মোঃ শাহ-আলম হাওলাদার বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়। ধর্ষক মানসুরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।