আমতলী প্রতিনিধিঃ হতদরিদ্রদের নামে সরকারের দেয়া ফেয়ারপ্রাইজের চালের কার্ড নবায়নের নামে টাকা নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আমতলী উপজেলার ফেয়ারপ্রাইজের ডিলার ও ইউপি সদস্যরা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তার যোগসাজসে এ টাকা আদায় করছেন। দ্রæত কার্ড নবায়নের নামে টাকা আদায় বন্ধের দাবী জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
জানাগেছে, ২০১৬ সালে হতদরিদ্র মানুষের খাদ্য বান্ধব কর্মসুচীর (ফেয়ারপ্রাইজ) আওতায় আনার জন্য ১০ টাকা কেজি দরে পরিবার প্রতি ৩০ কেজি চাল বিক্রি শুরু করেন সরকার। ওই কর্মসুচীর আওতায় আমতলী উপজেলায় ১৩ হাজার ২’শ ৪৫ জন উপকার ভোগী চিহিৃত করা হয়। বছরে মার্চ, এপ্রিল, সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নবেম্বর এই ৫ মাস ওই চাল বিতরনের জন্য উপজেলায় ২৪ জন ডিলার নিয়োগ দেয় উপজেলা প্রশাসন। গত ৫ বছর ধরে এ সুবিধা পেয়ে আসছে উপজেলার হতদরিদ্র ১৩ হাজার ২’শ ৪৫ পরিবার। এ বছর ওই উপকারভোগীদের কার্ড নবায়নের সিদ্ধান্ত নেন সরকার। কার্ড নবায়নের জন্য উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা উপজেলার ডিলারদের নির্দেশ দেয়। উপজেলার ডিলাররা ওই সুযোগে কার্ড নবায়নের নামে কার্ড প্রতি দুই’শ টাকা আদায় করছেন বলে অভিযোগ করেন উপকারভোগীরা। তারা অভিযোগ করেন ডিলাররা চাল বিতরনের সময় কার্ড রেখে নবায়নের নামে দুই’শ টাকা নেয়। এ টাকা দিতে না চাইলে তারা দুই’শ টাকার চাল রেখে দিবেন বলে হুমকি দেয়। বাধ্য হয়ে আমরা তাদের টাকা দিচ্ছি। তারা আরো বলেন, ইউপি সদস্যরা ডিলারদের কাছে কার্ড নবায়নের জন্য টাকা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, ডিলাররা উপকারভোগীদের কার্ড জমা রেখে দিচ্ছেন। জানতে চাইলে ডিলাররা বলেন, নতুন কার্ড দিতে পুরাতন কার্ড জমা রেখেছি।
লাল ভানু বলেন, কার্ড নতুন হইর্যা দেয়ার লই¹্যা মোর ধারে ডিলার আলমগীর মৃধা টাহা চাইছে। মোর ধারে টাহা আলহে না। মুই উদ্দার হইর্যা এক’শ টাহা দিছি।
গুলিশাখালী গ্রামের নুর মোহাম্মদ গাজী ও মোস্তফা প্যাদা বলেন, কার্ড নবায়নের জন্য ডিলার টাকা চেয়েছে কিন্তু দেয়নি।
আঠারোগাছিয়া পশ্চিম সোনাখালী গ্রামের সুলতান বাওয়ালী, সাহেদা, আইউব মৃধা, হান্নান মোল্লা ও সালেহা বেগম বলেন, কার্ড নবায়নের কথা বলে মাসুম মৃধা দুই’শ টাকা করে নিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বলেন, কার্ড নবায়নের টাকা না দিলে ডিলাররা চাল দিবে না বলে জানিয়ে দেয়। তাই বাধ্য হয়ে টাকা দিতে হচ্ছে।
আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের ডিলার আলমগীর মৃধা কার্ড নবায়নে টাকা নেয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তার নির্দেশে টাকা আদায় করেছি।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা সমীর কুমার রায় বলেন, কার্ড নবায়নে কোন টাকা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়নি। কোন ডিলার যদি টাকা আদায় করে থাকেন, সত্যতা সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
গুলিশাখালী ইউনিয়নের ফেয়ারপ্রাইজের চাল বিতরনে তদারকি কর্মকর্তা উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার মোঃ মনিরুজ্জামানের (০১৭২৫৪৪০৫৫৮) মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেনি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ কাওসার হোসেন বলেন, কার্ড নবায়নে কোন টাকা আদায় করা যাবে না। বিষয়টি খতিয়ে দেখে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।