মোঃ মাহতাব হাওলাদার, মহিপুর।। প্রতিবছরের ন্যায় এবছরও মা ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম উপলক্ষ্যে ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ২২ দিন নদী ও সমুদ্রে মাছ ধরার উপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় ঘাটে ফিরেছে জেলেরা।
মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন ১৯৫০ অনুযায়ী এসময় সারাদেশে মা ইলিশ আরহণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং দণ্ডনীয় অপরাধ।
এ আইন কেউ ভঙ্গ করলে কমপক্ষে ১ বছর হতে সর্বোচ্চ ২ বছর সশ্রম কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত হওয়ার বিধান রয়েছে।
এদিকে মৌসুম জুড়ে লোকসানের পরেও ইলিশ বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারের এ নিষেধাজ্ঞা পালনে বদ্ধপরিকর উপকূলের জেলেরা।
বিভিন্ন এলাকায় জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ বছর মৌসুমের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত জালে তেমন একটা ইলিশ ধরা পড়েনি। মৌসুমের শেষ দিকে এসে কিছু ইলিশ মিললেও তা আকারে ছিল খুবই ছোট। এবার ইলিশের উৎপাদন নিয়ে হতাশ জেলেরা।
যে পরিমাণ ইলিশ আহরণ করতে পেরেছে, তা দিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে সংসার চালানো খুবই কষ্টসাধ্য। আরও কয়েকটা দিন ইলিশ শিকার করতে পারলে এই সঙ্কট কাটিয়ে ওঠা যেত বলে জানিয়েছেন তারা।
জেলেরা জানান, গত বছর ১৪ অক্টোবর থেকে ইলিশ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে সরকার। এই বছর সেটা ১০ দিন এগিয়ে ৪ অক্টোবর করা হয়েছে, যা পড়েছে মৌসুমের শেষ অমাবস্যার মধ্যে। ফলে নিষেধাজ্ঞা শেষে আর জেলেদের জালে তেমন মাছ পড়ার সম্ভাবনা নেই।
মহিপুর মৎস্য ব্যবসায়ী মোঃ দেলোয়ার গাজী বলেন, ‘আমার ট্রলারে যে ইলিশ পেয়েছি তাতে লাভের লাভ কিছু হয়নি। না নিজে লাভ করতে পারছি, না জেলেদের কিছু দিতে পারছি। আশা ছিল মৌসুমের শেষে কিছু ইলিশ পাওয়া যাবে। কিন্ত আগেই নিষেধাজ্ঞা জারি করায় সেই আশাও শেষ হয়েছে।’
স্থানীয় জেলে মোঃ হানিফ মাঝী মোঃ জাফর মাঝী ও আঃ রব মাঝী বলেন, ‘এই মৌসুমে আমাদের কপালে কিছুই জোটেনি। সরকার নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। আমরা সবাই সেটা মানি। আশা করি নিষেধাজ্ঞা শেষে ভালো মাছ পাওয়া যাবে।’
রাঙ্গাবালী উপজেলার চরগঙ্গা এলাকার জেলে আঃ রব বলেন, ‘জেলেদের জন্য চাল বরাদ্ধ দেওয়া হয় শুনেছি। কিন্তু আমি কখনও পাইনি। কারা এই চাল পায় তা আমার জানা নেই।’
অবশ্য এ নিষেধাজ্ঞা পালনে তাদের কাটাতে হবে চরম ভোগান্তি ও দারিদ্র্যতায়। নামে মাত্র চাল সহায়তা নয়, আর্থিক সহায়তার দাবিও রয়েছে জেলেদের।
আর সেই সহায়তা প্রকৃত জেলেরা যাতে পায় সে দাবিও তাদের।
মহিপুর, আলীপুর ও কুয়াকাটার কয়েকজন মৎস্যজীবি জানান, ৪ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে টানা ২২ দিন সাগরে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সরকার।
আগের থেকে এখন জেলেরা অনেক সচেতন।
তাই ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে সব জেলেরা উৎসাহিত হয়ে মাছ ধরা বন্ধ করে গতকাল রাত ১২ টার আগেই বঙ্গোপসাগর ও নদী থেকে তারা ঘাটে ফিরে এসেছে।
অবশ্য ভারতসহ পার্শ্ববর্তী দেশে একই সময়ে অবরোধ না দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা আরও জানান, নিষেধাজ্ঞার ২২ দিন মাছ ধরা বন্ধ নিশ্চিত করবেন তারা।
এ সময় পার্শ্ববর্তী দেশের জেলেরা যাতে বাংলাদেশের জলসীমায় মাছ শিকার করতে না পারে সে ব্যবস্থা করার দাবিও তাদের।
অবরোধকালীন সময়ে গভীর সমুদ্রে কোস্টগার্ড ও নৌ-পুলিশসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োজিত থাকবেন।