আপন নিউজ প্রতিবেদন, আমতলীঃ দের বছর পেরিয়ে গেলেও আমতলী উপজেলার দুই’শ ১৬ ক্যান্সার, লিভার সিরোসিস ও কিডনিসহ জটিল রোগীরা সরকারী অনুদানের টাকা পায়নি। অনুদানের টাকা না পেয়ে হতাশ ভুক্তভোগী ও পরিবার। দ্রুত অনুদানের টাকা পেতে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
জানাগেছে, ক্যান্সার, লিভার সিরোসিস, কিডনী, থ্যালাসেমিয়া, জন্মগত হৃদরোগ ও স্টোকজনিত প্যারালাইস্টসহ জটিল রোগীদের অনুদানের উদ্যোগ নেন সরকারী। উপজেলা ও জেলা কার্যালয়ের যাচাই বাছাই শেষে জটিল রোগীদের পঞ্চাশ হাজার টাকা অনুদানের জন্য মনোনিত করা হয়। আমতলী উপজেলা সমাজসেবা অফিস থেকে গত দের বছরে দুই’শ ১৬ জন রোগী সরকারী অনুদান পাওয়ার উপযোগী সুপারিশ করে বরগুনা জেলা সমাজ সেবা কার্যালয়ে পাঠানো হয়। এর মধ্যে ২০-২১ অর্থ বছরে ক্যান্সার ৩০, কিডনী ১৩, লিভার সিরোসিস ৮ ও থ্যালাসেমিয়া ৪। ২০২১-২২ অর্থ বছরে ক্যান্সার ৭০, কিডনী ১৯, লিভার সিরোসিস ১১, স্টোক ৩৪ ও জন্মগত হৃদরোগ ৪ জন রোগী রয়েছে। দের বছর পেরিয়ে গেলেও আমতলী উপজেলার ওই সকল রোগীরা সরকারী অনুদান পায়নি। সরকারী অনুদানের আশায় অনেক রোগী আবেদন করে মারাও গেছেন।
বরগুনা জেলা কার্যালয় সুত্রে জানাগেছে, আবেদনে ভুল ত্রুটি ও অফিসিয়াল কিছু ঝামেলার কারনে অনদানের টাকা বিতরনে সমস্যা হচ্ছে। অনুদানের টাকা না পেয়ে হতাশ ভুক্তভোগী ও পরিবার।
ভুক্তভোগী মোঃ বশির উদ্দিন বাদল মৃধা বলেন, ক্যান্সার রোগী ভাই দুলাল মৃধার জন্য সরকারী অনুদান পেতে আবেদন করেছিলাম কিন্তু এখন পর্যন্ত অনুদান পাইনি। আবেদনের তিন মাস পরে ভাই মারা গেছেন। ভাইয়ের রেখে যাওয়া দুইটি সন্তান ও তার স্ত্রী অর্থাভাবে অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন। অনুদানের টাকা পেলে ভাইয়ের পরিবার কিছুটা হলে উপকার হতো।
ক্যান্সার রোগী জয়নব বেগম বলেন, সরকারী অনুদানের টাকা পাওয়ার আগে মনে হয় মারা যাব।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ মাঞ্জুরুল হক কাওসার বলেন, উপজেলার দুই’শ ১৬ টি আবেদন সুপারিশ করে জেলা কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুদান পেতে জেলা কার্যালয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।
বরগুনা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক কাজী মোঃ ইব্রাহিম বলেন, অনুদানের টাকা বিতরনে অফিসিয়াল কিছু ঝামেলা রয়েছে। ওই ঝামেলা গুলো দ্রুত সমাধান করে আসছে রমজানের মধ্যেই অনুদানের টাকা বিতরন করা হবে।