আমতলী প্রতিনিধি।। তালতলীর পঁচাকোড়ালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী আব্দুর রাজ্জাক হাওলাদারের ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের তান্ডবে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু জাফর খোকন হাওলাদারের ১০ সমর্থক আহত হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গুরুতর আহত লিটন মৃধা (৪০) ও রাকিব মিয়াকে (২৫) পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনা ঘটেছে বুধবার দুপরে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায়।
জানাগেছে, স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক লিটন মৃধাসহ ১০-১২ জনে হুলাটানা গ্রামে প্রচারনা চালাচ্ছিল। এ সময় নৌকার ভাড়াটে সন্ত্রাসী ছালাম মল্লিক, বাহাদুর প্যাদা, রুবেল তালুকদারসহ ৫০-৬০ জন সন্ত্রাসী অতর্কিতভাবে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের ওপর হামলা চালায় বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শী ইব্রাহিম পাহলান। এতে লিটন মৃধা, রাকিব, বিনোদ বাবুল, লিটন গোমস্তা, কালা পাইকসহ ১০ জন আহত হয়। গুরুতর আহত লিটন মৃধা ও রাকিবকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপর আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়।
স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু জাফর খোকন হাওলাদার বলেন, নৌকার প্রার্থী আব্দুর রাজ্জাক হাওলাদারের ভাড়াটে সন্ত্রাসী বাহিনী ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে তান্ডব চালাচ্ছে। তার ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের হামলায় আমার ১০ জন সমর্থক আহত হয়েছে। তিনি আরো বলেন, নৌকার সন্ত্রাসী বাহিনী আমাকে প্রচারনায় বাধা দিচ্ছে। যেখানে- সেখানে আমার কর্মী সমর্থকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালাচ্ছে।
নৌকার প্রার্থী আব্দুর রাজ্জাক হাওলাদার ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, উল্টো স্বতন্ত্র প্রার্থীর সন্ত্রাসী বাহিনী আমার সমর্থকদের ওপর হামলা করেছে। তার সন্ত্রাসী বাহিনীর হামলায় ইদ্রিস নামের আমার এক কর্মী আহত হয়েছে।
তালতলী থানার ওসি কাজী সাখাওয়াত হোসেন অপু বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অপরদিকে, তালতলী উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী (ঘোড়া প্রতীক) দুলাল ফরাজী নির্বাচনী প্রচারনাকালে নারী কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আওয়ামীলীগ প্রার্থী মোঃ কামরুজ্জামান বাচ্চুর সমর্থকরা এ হামলা করেছে বলে স্বতন্ত্র প্রার্থী দুলাল ফরাজী অভিযোগ। এ হামলায় ৮ জন নারী কর্মী আহত হয়েছে। ঘটনা ঘটেছে মঙ্গলবার রাতে তালতলী উপজেলার নিদ্রা বাজারে।
স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, স্বতন্ত্র প্রার্থী দুলাল ফরাজীর স্ত্রী মাসুদা আক্তার ১৫-২০ জন নারী কর্মী নিয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিদ্রা বাজারে প্রচারনা চালাচ্ছিল। ওই সময় আওয়ামীলীগ প্রার্থীর সমর্থকরা মোটর সাইকেলে এসে স্বতন্ত্র প্রার্থীর নারী কর্মীদের ওপর হামলা চালায় বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। পরে তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী স্ত্রী মোঃ মাসুদা আক্তারকে অবরুদ্ধ করে রাখে হামলাকারিরা অভিযোগ করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী দুলাল ফরাজী। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। এ হামলায় আলেয়া বেগম, ফাতেমা বেগম, মিনারা বেগম, রিনা বেগম, রহিমা বেগম ও ফিরোজা বেগম আহত হয়। আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী দুলাল ফরাজী অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনী প্রচারনাকালে আমার স্ত্রীর সাথে থাকা ১০-১২ জন নারী কর্মীর উপর নৌকার সন্ত্রাসীবাহিনী হামলা করেছে। এতে আমার ৮ জন নারী কর্মী আহত হয়েছে। তিনি আরো বলেন, হামলাকারীরা হামলা করেই ক্ষ্যান্ত হয়নি আমার স্ত্রীকে অবরুদ্ধ করে রাখে। পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করেছে।
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে নৌকা প্রার্থী কামরুজ্জামান বাচ্ছু বলেন, এগুলো সব দুলাল ফরাজীর সাজানো নাটক। আমার সমর্থকরা কারো ওপর হামলা করেনি।
তালতলী থানার ওসি সাখাওয়াত হোসেন তপু বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনা হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।