আপন নিউজ অফিস।। কলাপাড়ায় পরাজিত মেম্বার প্রার্থী জলিল ঘরামির নেতৃত্বে গ্রেফতারকৃত আসামি তার ভাই খলিল ঘরামিকে (৪২) ছিনিয়ে নেয়ার জন্য মহিপুর থানায় দুই শতাধিক সমর্থক থানা ঘেরাও করা হয়েছে। এসময় উভয় পক্ষের হামলা পাল্টা হামলা ও লাটিপেটায় আট পুলিশসহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছে।
এর মধ্যে মহিপুর থানার এসআই হালিমকে কলাপাড়া হাসপাতালে এবং নারী কনস্টেবল শীলা ও নাসরিনকে কুয়াকাটা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া কনস্টেবল মিলন, আফজাল, ওবায়দুল, নারী কনস্টেবল নাহার, লিজাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। শুক্রবার বিকেল সাড়ে তিনটা থেকে সাড়ে চারটা পর্যন্ত পুলিশের সঙ্গে পরাজিত মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের এই সংঘাত ঘটেছে। পরে পুলিশ জলিল ঘরামিকেও গ্রেফতার করে।
মহিপুর থানার ওসি মোঃ আবুল খায়ের জানান, লতাচাপলী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড পরাজিত মেম্বার প্রার্থী জলিল ঘরামির ভাই খলিল ঘরামির নেতৃত্বে নৌকা ও বিজয়ী মেম্বার আবুল কাজীর সমর্থক কবির মোল্লার ওপর বৃহস্পতিবার হামলা করা হয়। করা হয় মারধর। কবির মোল্লা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় কবির মোল্লার স্ত্রী শিউলি বেগম মহিপুর থানায় খলিল ঘরামিসহ কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেন। শুক্রবার বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে পুলিশ আসামি খলিল ঘরামিকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে। এর পরপরই খলিলকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিতে দুই শতাধিক নারী পুরুষ জলিল ঘরামি ও লাইলি বেগমের নেতৃত্বে থানা ঘেরাও করে।
পুলিশ তাদেরকে চলে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। সেখানে বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে হামলা চালায়। পুলিশও হামলা ঠেকাতে লাটিপেটা করলে উভয় পক্ষ ঘন্টাব্যাপী সংঘাতে লিপ্ত হয়। চলে ধাওয়া পাল্টাধাওয়া। করা হয় ইট-পাটকেল নিক্ষেফ। এতে আট পুলিশ এবং জলিল সমর্থকদের ১৫ জন আহত হয়।
এরা হচ্ছেন, আঃ রাজ্জাক, রাজা মিয়া, দুলাল, মনির মোল্লা, মনিরুজ্জামান, কাদের মাঝি, মিলন বেপারী, ওবায়দুল্লাহ, ইলিয়াস, রায়হান, মোসলেম, মজিদ, ইউসুফ, বিউটি ও সাফিয়ার নাম জানা গেছে।
আহতরা জানান, তারা শান্তিপুর্ণভাবে অবস্থান করছিলেন। পুলিশ তাদেরকে লাঠিপেটা করেছে। ওসি আবুল খায়ের আরও জানান, এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হচ্ছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের সম্পুর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেছেন। তবে বিরাজ করছে থমথমে অবস্থা।