এস এম আলমগীর হোসেন।। কলাপাড়ায় স্বামীর দাবিকৃত যৌতুকের টাকা না পেয়ে দুই সন্তানকে জননী কে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শনিবার (২ জুলাই) রাত সাড়ে ৯ টায় উপজেলার চাকামাইয়া ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড পশ্চিম চাকামাইয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনায় নির্যাতিত দুই সন্তানের জননী নাজমা বেগম (২৭) স্বামী ইউনুছ মাতুব্বর (৩৫), শাশুড়ি রওশনা বেগম (৫৫), শশুর বারেক মাতুব্বর (৬৫), ভাসুর জাহাঙ্গীর মাতুব্বর (৪৫) ও হানিফ মাতুব্বর (৪০) কে আসামী করে কলাপাড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছে।
থানায় লিখিত অভিযোগে দুই সন্তানের জননী নাজমা বেগম বলেন, দশ বছর পূর্বে রেজিস্ট্রেশন কাবিন মুলে ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক আমার বিবাহ হয়। বিয়ের সময় স্বর্ণালংকার ও বিভিন্ন আসবাবপত্র দিয়ে দেয় আমার পিতা-মাতা। বিয়ের পর বিভিন্ন সময় স্বামী, শশুর-শাশুড়ি ও ভাসুর যৌতুকের জন্য শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছে। আমি আমার দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে স্বামীর ব্যবসার জন্য এক লাখ টাকা বাবার বাড়ি থেকে এনে দেই। কিন্তু আমার স্বামী ব্যবসা না করে বিভিন্ন নেশাদ্রব্য পান করে টাকা নষ্ট করে ফেলে।
তিনি আরও বলেন,পরবর্তীতে বিদেশ যাবে বলে বাবার বাড়ি থেকে এক লাখ টাকা আনতে বলে আমি ওই টাকা না দিতে অসম্মতি জানাইলে আমার উপর চরম ক্ষিপ্ত হয়ে চুলের মুষ্টি ধরে দরজা বন্ধ করে আমাকে লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় মারাত্মক জখম করে। পরে আমাকে ঘরের ভিতরে আটকে রাখে, আমার ডাক-চিৎকারে আশেপাশের লোক এগিয়ে আসলে তাদেরকেও বিভিন্ন ধরনের গালিগালাজ করে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করে, এক পর্যায়ে আমার ছেলে ইছাহাক (৯) মোবাইল ফোনে আমার মাকে জানালে আমার মা লোকজন নিয়ে এসে আমাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করে। আমি এই ঘটনায় বিচার চাই।
বর্তমানে নির্যাতিত নাজমা বেগম কলাপাড়া হাসপাতালে দুই সন্তানকে নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
কলাপাড়া থানার ওসি মো. জসীম বলেন, এ ঘটনায় অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।