আমতলী প্রতিনিধি।। অগ্নি নির্বাপক ও বিস্ফোরক লাইসেন্স ছাড়া লাইব্রেরী, চায়ের দোকান, কাপরের দোকান, মুদিমনোহরদি, ক্রোকারিজ ও ইলেকট্রোনিক্স দোকানসহ গ্রামের যত্রতত্র স্থানে বিক্রি হচ্ছে গ্যাস। এতে ভয়াবহ বিস্ফোরন ও আগুনের ঝুঁকিতে রয়েছে আমতলী। যে কোন সময় আমতলীতে ভয়াবহ অগ্নিউৎপাদের সম্ভবনা রয়েছে। দ্রুত যত্রতত্র স্থানে গ্যাসের সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধের দাবী জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।
জানাগেছে, উপজেলায় পাঁচজন গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির ডিলার রয়েছে। ওই পাঁচজন ছাড়া উপজেলা শহরের লাইব্রেরী, চায়ের দোকান, কাপরের দোকান, মুহিমনোহরদি, ক্রোকারিজ ও ইলেকট্রোনিক্স দোকানসহ গ্রামের যত্রতত্র দুই শতাধিক স্থানে গ্যাসের সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে। ওই সকল দোকানগুলোতে গ্যাস বিক্রির সরকারী কোন অনুমোদন নেই। নেই অর্গিনির্বাপক ও বিস্ফোরক লাইসেন্স। প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা যত্রতত্র স্থানে গ্যাসের সিলিন্ডার বিক্রি করছে। এতে ভয়াবহ বিস্ফোরন ও আগুনের ঝুঁকিতে রয়েছে আমতলী উপজেলা। যে কোন সময় ভয়াবহ অগ্নিউৎপাতের সম্ভবনা রয়েছে বলে ধারনা করেছেন সচেতন মহল।
বুধবার খোজ নিয়ে জানাগেছে, আমতলীতে বসুন্ধরা কোম্পানীর গ্যাস সিলিন্ডারের ডিলার মোঃ মহিউদ্দিন, জি-গ্যাস, বিএম ও ফ্রেস কোম্পানীর ডিলার আনিচুর রহমান বাচ্চু, সেনা কল্যাণ, টোটাল ও বেক্সিমকো কোম্পানীর ডিলার মোঃ রেজাউল কবির ও টোটাল, জেএম আই কোম্পানীর ডিলার জব্বার সিকদার এবং রাসেল ওরিয়ন কোম্পানীর ডিলার। এ পাঁচজন ডিলারের অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র লাইসেন্স রয়েছে। কিন্তু অগ্নি নির্বাপক ও বিস্ফোরক লাইসেন্স ছাড়া উপজেলায় দুই’শতাধিক বিভিন্ন দোকানে গ্যাস ডিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে।
ডিলার আনিচুর রহমান বাচ্চু বলেন, অগ্নি নির্বাপক ও বিস্ফোরক লাইসেন্স ছাড়া যত্রতত্র স্থানে গ্যাস বিক্রি হচ্ছে।
ডিলার মোঃ মহিউদ্দিন বলেন, অগ্নি নির্বাপক লাইসেন্স ছাড়া গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে। সাময়ীকভাবে উপকার হলেও এতে অত্যান্ত ঝুঁকি রয়েছে।
আমতলী পৌর নাগরিক কমিটির সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত সহকারী অধ্যাপক মোঃ আবুল হোসেন বিশ্বাস বলেন, যত্রযত্র স্থানে গ্যাস বিক্রি করা অত্যান্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও অন্যায়। দ্রæত যত্রতত্র স্থানে গ্যাসের সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধের দাবী জানাই।
আমতলী ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ গোলাম মোস্তফা বলেন, গ্যাসের ডিলারদের অগ্নিনির্বাপক লাইসেন্স দেয়া আছে। কিন্তু লাইব্রেরী, চায়ের দোকান, কাপড়ের দোকান, মুহিমনোহরদি ও ক্রোকারিজের দোকানে গ্যাস বিক্রির জন্য কোন অগ্নিনির্বাপক লাইসেন্স দেয়া হয়নি। এ সকল দোকানে গ্যাসের সিলিন্ডার বিক্রি করা বে-আইনি এবং ঝুকিপুর্ণ। অভিযোগ পেয়ে আইনগত নেয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার একেএম আব্দুল্লাহ বিন রশিদ বলেন, যত্রতত্র স্থানে গ্যাসের সিলিন্ডার বিক্রি করা যাবে না। অবৈধভাবে যারা গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।