সঞ্জিব দাস, গলাচিপা: গলাচিপায় মহান বিজয়ের এই মাসে আজও কান্না থামেনি মুক্তিযদ্ধে শহীদ নিরঞ্জন বিশ্বাসের পরিবার। শহীদ নিরঞ্জন বিশ্বাস হচ্ছেন আমতলী উপজেলার আঠারোগাছিয়া ইউনিয়নের সোনাখালী কলেজের শরৎ চন্দ্র বিশ্বাসের ছেলে। শহীদ নিরঞ্জন বিশ্বাস ছিলেন আমতলী উপজেলার আঠারোগাছিয়া ইউনিয়নের সংগ্রাম কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও বরিশাল বিভাগের প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার। পেশাগত কাজে তিনি বাবা-মা ও ভাইদের নিয়ে গলাচিপা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড সদর রোড বটতলায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। ১৯৭১ সালের আগস্ট মাসের ৪ তারিখ বর্বর পাকহানাদার বাহিনী তার গ্রামের বাড়ী থেকে ধরে নিয়ে গলাচিপা থানায় নিয়ে আসে। পরে তাকে পটুয়াখালী পুরাতন জেলখানায় রেখে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যা করে পাকহানাদার বাহিনী। শহীদ নিরঞ্জন বিশ্বাসের লাশটিও পাকহানাদার বাহিনী তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেনি। এ বিষয়ে শহীদ নিরঞ্জন বিশ্বাসের ছোট ভাই মনু বিশ্বাস বলেন, আমার ভাই মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে আঠারোগাছিয়া ইউনিয়নের সংগ্রাম কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মূখ্য ভূমিকা পালন করায় ও বরিশাল বিভাগের ১ম শ্রেণির ঠিকাদার থাকায় পাকহানাদার বাহিনীর রোশানলে পড়েন। পাকহানাদার বাহিনী আমাদের গ্রামের বাড়ী থেকে ভাইকে গলাচিপায় ধরে নিয়ে আসে। তখন আমরা ভয়ে ছিলাম। না জানি আমাদের সবাইকে ধরে নিয়ে আসে। পরে শুনতে পাই আমার ভাইকে পটুয়াখালী পুরাতন জেলখানায় নির্মম অত্যাচারের পর গুলি করে হত্যা করা হয়। আমরা অনেক অনুরোধ করেও ভাইয়ের লাশটি ফিরে পাই নি। বিজয়ের মাস আসলেই ভাইয়ের কথা মনে পড়ে। তখন বুকের ভিতরটা হু হু করে কেঁদে ওঠে। তাইতো আজও নিরবে কান্না করি আমরা। আজ ভাই থাকলে হয়তো আমাদের মনোবল জাগ্রত হতো। কিন্তু ভাই আজ নেই আমাদের মাঝে। কিন্তু আছে তার স্মৃতি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সদয় দৃষ্টি কামনা করছি। শহীদ পরিবারের সম্পদগুলো আপনাদের মাধ্যমে আমরা ফিরে পেতে চাই।