আমতলী প্রতিনিধি: আমতলী সরকারী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পেলেন জ্যেষ্ঠ প্রভাষক মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান। সোমবার মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মীর রাহাত মাসুম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে তাকে এ দায়িত্ব দেয়া হয়। অফিস আদেশ পেয়ে ওইদিন বিকেলে তিনি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পদে দায়িত্ব গ্রহন করেছেন। জ্যেষ্ঠ প্রভাষক মোহাম্মদ আব্দুল মান্নানকে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেয়ায় উচ্ছাসিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
জানাগেছে, ২০১৬ সালের ৭ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমতলী ডিগ্রী কলেজ জাতীয়করণ করেন। এর পর থেকে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে কলেজের প্রভাষকরা ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পদে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। গত ৬ ডিসেম্বর কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কঙ্কাবতী বিশ্বাস জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে ইসলামী শিক্ষা বিষয়ের প্রভাষক মোহাম্মদ আব্দুল মান্নানকে দায়িত্ব না নিয়ে তিনজনকে ডিঙ্গিয়ে চতুর্থ নম্বর প্রভাষক বিএনপি শিক্ষক পরিষদ নেতা মোঃ ফজলুল হককে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেন। অভিযোগ রয়েছে বিএনপি শিক্ষক নেতা মোঃ ফজলুল হক আমতলী উপজেলা আওয়ামীলীগ শীর্ষ নেতাদের যোগসাজসে তাদের প্রভাব খাটিয়ে তিনি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব বাগিয়ে নেন। গত দের মাস ধরে ফজলুল হক অবৈধভাবে কলেজের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম অশান্তি ও ক্ষোভ বিরাজ করে। এ বিষয়ে গত ১০ ডিসেম্বর প্রভাষক মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান আমতলী সাংবাদিক ইউনিয়ন কার্যালয়ে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে দায়িত্ব দেয়ার অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলনে করেছেন। আমতলী সরকারী কলেজের জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে অধ্যক্ষের দায়িত্ব গ্রহন শিরোনামে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে টনক নড়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের। সোমবার মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের কলেজ শাখার সহকারী পরিচালক মীর রাহাত মাসুম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে মোহাম্মদ আব্দুল মান্নানকে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেয়া হয়। ওইদিন বিকেলে তিনি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব গ্রহন করেছেন। তাকে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পদে দায়িত্ব দেয়ার সাধারণ শিক্ষকদের মধ্যে আনন্দ বিরাজ করছে।
আমতলী সরকারী কলেজের অবৈধভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ ফজলুল হকের মুঠোফোনে (০১৭৩৪৯১১২০২) যোগাযোগ করা হলে তিনি না ধরে কেটে দেন।
আমতলী সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান বলেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের অফিস আদেশ পেয়েছি। তাতে আমাকে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। ওই অফিস আদেশে উল্লেখ আছে যততিন পর্যন্ত কলেজে অধ্যক্ষ দেয়া না হবে ততদিন কলেজের অধ্যক্ষের দায়িত্ব আমাকে পালন করতে হবে। তিনি আরো বলেন, ওই অফিস আদেশ মতে আমি সোমবার বিকেল ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পদের দায়িত্ব গ্রহন করেছি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আশরাফুল আলম বলেন, এখনো চিঠি পাইনি। চিঠি পেয়ে আদেশ মতে কার্যকরী ব্যবস্থা নেয়া হবে।