চঞ্চল সাহাঃ দীর্ঘ দু’বছর লালন-পালনের পরে অবশেষে নাম ধরে ডাকলেও কাছে এসে পড়ে কামাল পাহলান নামের এক জেলের একটি বাজ পাখি। পাখিটির তিনি নাম দিয়েছেন ’ডায়মন্ড’। তার ডায়মন্ড এখন সত্যিকারের ডায়মন্ডে পরিনত হয়েছে। নাম ধরে ডাকলে দ্রুত কাছে এসে পড়ে। আসতে না পারলেও সাড়া দেয় এ বাজ পাখিটি। এ ঘটনা কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর ইউনিয়নের বিপিনপুর গ্রামে। ২০২১ সালের শেষ দিকে আকস্মিক দু’টি বাজ পাখি উড়ে আসে কামাল পাহলানের বাড়ী সংলগ্ন একটি রেইনট্রিতে । হঠাৎ করে একটি অসুস্থ হয়ে গাছের নিচে পড়ে থাকলে দৃষ্টিগোচর হয় কামাল পাহলানের । তখন কামাল বাড়ীর পাশে খালে মাছ শিকারে ব্যস্ত ছিলেন। মাছ শিকার শেষে পড়ে থাকা বাজ পাখিটি তুলে নিয়ে যায় তার বাড়ীতে। পাখিটি তখন অসুস্থ থাকায় খাচায় বদ্ধ করে চিকিৎসা দিয়েছেন। এসময় তার বাড়ীতে অপর পাখিটিও চলে আসে। অসুস্থ বাজ পাখিটি তিনি চিকিৎসা দিয়ে সেড়ে তুলেছেন। দীর্ঘ দু’বছর পাখি দু’টি লালন-পালন করার পর একটি বাজ পাখি দেড় মাস আগে নিরুদ্দেশে চলে গেলেও যায়নি ডায়মন্ড। প্রতিদিন কামাল পরিমিত মাছ খাওয়াচ্ছে, খাওয়াচ্ছে পানি,দিচ্ছে চিকিৎসা। বাজ পাখি মানুষের পোষ মানে এমন ঘটনা বিরল বিধায় এখন প্রতিদিনই মানুষ আসছে কামালের বাড়ীতে ডায়মন্ড নামের বাজ পাখিটি দেখতে।
এ ব্যাপারে কামাল পাহলান বলেন’ দু’টি পাখিরই তিনি ডায়মন্ড নাম রেখেছিলেন, দু’মাস ধরে অপর পাখিটি নিখোঁজ হয়েছে। তিনি ধারনা করছেন, কেউ তাকে শিকার করছে কিংবা মেরে ফেলছেন। সেটিই বেশী পোষ মানা ছিল। তবে পাখি দু’টিকে তিনি ডাকলেই চলে আসতো তার ঘাড়ের উপর কিংবা হাত পাতলে হাতের উপর। ইতিমধ্যে পাখি দুটিকে তিনি মাছ.মাংসর পাশাপাশি ভাত খাওয়াও শিখিয়েছিলেন ।
কলাপাড়া সরকারী মোজাহার উদ্দিন বিশ্বাস ডিগ্রি কলেজের উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের প্রভাষক মো.শাহআলম খান জানান,যে কোন হিং¯্র প্রানী মানুষের পোষ মানে যদি তাকে সঠিক সময়ে খাবার ,চিকিৎসা এবং তাকে আদর দেয়া যায়। অপরদিকে, এ অঞ্চলে ’মিগ্রান্স’ প্রজাতির বাজ পাখি দেখা যায় বলে তিনি উল্লেখ করেন।