আমতলী প্রতিনিধিঃ মামলা তুলে না নিলে মামলার বাদী মোশাররফ হোসেন হাওলাদার ও তার পরিবারের লোকজনকে তুলে নিয়ে হত্যার হুমকি দিচ্ছে মামলার আসামী গলাচিপা উপজেলার গোলখালী ইউনিয়নের ইউপি সদস্য সাইদ মুন্সি। আসামীর ভয়ে মামলার বাদী পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এমন অভিযোগ এনে বুধবার বিকেলে আমতলী সাংবাদিক ইউনিয়ন কার্যালয়ে মামলার বাদী মোশাররফ হোসেন হাওলাদার লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
জানাগেছে, গত ৪ মে রাতে কলাপাড়া উপজেলার রামনাবাদ নদী দিয়ে ট্রলার নিয়ে আমতলী উপজেলার গাজীপুর বন্দরে আসতেছিল মাঝি মোশাররফ হোসেন হাওলাদার। পাটুয়া লঞ্চঘাটে পৌছামাত্রই একদল ডাকাত ওই ট্রলারে হামলা করে। ডাকাতদল ওই ট্রলারের লোকজনকে মারধর করে ট্রলার থাকা মালামাল ও নগদ টাকা নিয়ে যায়। এ ঘটনায় গত ১৬ মে ট্রলার মাঝি মোশাররফ হোসেন বাদি হয়ে কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ইউপি সদস্য সাইদ মুন্সিকে প্রধান আসামী করে ৫ জনের নামে ডাকাতি মামলা দায়ের করেন। আদালতের বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে পটুয়াখালী ডিবি পুলিশকে তদন্ত পুর্বক আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। এদিকে মামলার খবর পেয়ে প্রধান আসামী ইউপি সদস্য সাইদ মুন্সি মামলার বাদী মোশাররফ হাওলাদারকে মামলা তুলে নিতে চাপ দিচ্ছে। মামলা তুলে না নিলে তাকে ও তার পরিবারের লোকজনকে তুলে নিয়ে হত্যা করবে বলে হুমকি দিচ্ছে তিনি। আসামী সাইদ মুন্সির ভয়ে মামলার বাদী মোশাররফ পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। বুধবার মামলার বাদী মোশাররফ হোসেন আসামী ইউপি সদস্য সাইদ মুন্সির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ এনে আমতলী সাংবাদিক ইউনিয়ন কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
মামলার বাদী মোশাররফ হোসেন হাওলাদার কান্নাজনিত কন্ঠে বলেন, ইউপি সদস্য সাইদ মুন্সির নেতৃত্বে একদল ডাকাত ট্রলারে ডাকাতি করে। মামলা তুলে না নিলে আমাকে ও আমার পরিবারের লোকজনকে তুলে নিয়ে হত্যা করবে বলে তিনি হুমকি দিচ্ছে। আমি তার ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। আমি এ ঘটনায় ইউপি সদস্যে শাস্তি দাবী করছি।
ইউপি সদস্য সাইদ মুন্সির মুঠোফোনে (০১৭১৮৪৬৩৮০৯) বারবার যোগাযোগ করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
পটুয়াখালী ডিবি পুলিশের ওসি একেএম আজমল হুদা বলেন, পরিদর্শক মেসবাহ উদ্দিনকে মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তিনি ছুটিতে আছেন। ছুটি শেষে আসা মাত্রই তিনি তদন্ত কাজ শুরু করবেন।