আমতলী প্রতিনিধিঃ পবিত্র ঈদুল আজহার বাকী আর মাত্র ২ দিন। বাজারে গবাদি পশু চাহিদা বেশী থাকলে লাম্বি স্কিণ রোগের কারনে বাজারে প্রয়োজনের তুলনায় কম গরু উঠছে। এতে বাজারে গরু চরা মুল্যে বিক্রি হচ্ছে। বিপাকে পরেছে ক্রেতারা।
আমতলী প্রাণী সম্পদ অফিস সূত্রে জানাগেছে, উপজেলায় কোরবানীর জন্য ৭ হাজার ৯’শ ৫০ টি গবাদি পশুর চাহিদা রয়েছে। চাহিদার বিপরীতে এ উপজেলার ৮ হাজার ৭’শ ৮৯ টি পশু আছে। এর মধ্যে ৭ হাজার ৪’শ ৬৪ টি গরু, ১৫৬ টি মহিষ,১ হাজার ৮৯ টি ছাগল ও ১২৯ টি ভেড়া। চাহিদার তুলনায় ৮’শ৩৯ টি পশু বেশী রয়েছে। এর মধ্যে গরু ৫’শ ৮২ টি। শেষ সময়ে ভালো লাভের আশায় ব্যস্ত খামারীরা। খুব যতœ সহকারে গবাদি পশুর দেখভাল করছেন তারা। কিন্তু লাম্বি স্কিণ ভাইরাসের কারনে তারা দিশেহারা। এতে বাজারে পশু কমে উঠছে। ফলে গত বাজারে পশুর দামে অনেক বেশী।
খোঁজ খবর নিয়ে জানাগেছে, বাজারে চাহিদার তুলনা গরু কম উঠেছে। বেশী দামে পশু বিক্রি হচ্ছে।
একে এম জিল্লুর রহমান বলেন, গরুর লাম্বি স্কিণ রোগে আক্রান্ত হওয়ায় এখনো গরু ক্রয় করিনি। ঈদের আগের দিন ক্রয় করবো ভেবেছি। তিনি আরো বলেন, বাজারে কম গরু আসছে তাই দাম অনেক বেশী।
নাচনাপাড়া গ্রামের খামারী এসএম তানভির বলেন, বাজারে গরু কম উঠায় দাম অনেক বেশী।
খামারী ছত্তার ফকির বলেন, কোরবানীর হাটে বিক্রি করতে দুইটি গরু লালনপালন করেছি। কিন্তু একটি গরু রোগাক্রান্ত হওয়ায় বাজারে নিতে পারছি না।
আমতলী গাজীপুর বন্দরের গরু ব্যবসায়ী আলহাজ্ব মাহবুবুর রহমান হাওলাদার বলেন, এ বছর বাজারে গরু অনেক কম উঠছে। ফলে গরুর দাম অনেক বেশী। গত বছরর তুলনায় এ বছর বড় ও মাঝাই ধরনের গরু ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা বেশী দামে বিক্রি হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, এখন পর্যন্ত কোরবানী উপযুক্ত ২৮ টি গরু বিক্রি করেছি। বেশ লাভ হয়েছে।
আমতলী গরু হাটের ইজারাদার ও ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মোতাহার উদ্দিন মৃধা বলেন, রোগের কারনে কোরবানীর গরু মানুষ কিনছেন না। তবে দাম অনেক বেশী।
আমতলী থানার ওসি একেএম মিজানুর রহমান বলেন, উপজেলার সকল বাজারে পযাপ্ত নিরাপত্তা রয়েছে। বাজারে আসা ক্রেতা-বিক্রেতারা পশু ক্রয়-বিক্রি করে যাতে নির্বিঘ্নে বাড়ী ফিরতে পারে সেই ব্যবস্থা নিয়েছি।
উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ নাজমুল হক বলেন, উপজেলায় প্রয়োজনের তুলনায় বেশী গবাদি পশু থাকলেও লাম্বি স্কিন রোগের কারনে বাজারে গরু কম আসছে। তাই দাম অনেক বেশী।