চঞ্চল সাহা,কলাপাড়াঃ কলাপাড়ায় টানা পাঁচদিনের বিরামহীন বর্ষনে উপজেলার ১২ টি ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ পানিবন্ধি হয়ে পড়েছে। পানির ব্যাপক চাপে নিস্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় মানুষের দূর্ভোগ চরমে উঠেছে। মানুষ কলাগাছের ভেলা কিংবা ছোট ছোট ডিঙ্গি নৌকা নিয়ে যাতায়াত করছে। তবে কাচাঁ কিংবা অর্ধপাকা রাস্তাঘাট এখনো ডুবে আছে পানির নিচে। পানির কারনে অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে খবর নিয়ে জানা গেছে, শিক্ষার্থী উপস্থিতি ছিল হাতে গোনা কয়েকজন মাত্র। মানুষ অতি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হচ্ছে না,তবে অধিকাংশ মানুষ ঘরমুখো। বৃষ্টির কারনে শতশত শ্রমিকরা মাঠে কাজ করতে না পেরে কর্মহীন হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশী ক্ষতির শিকার হয়েছে নিম্নাঞ্চলের মানুষ। তাদের অনেকের বাড়ী-ঘরে পানিতে পানিতে প্লাবিত হয়ে আছে। এসব পরিবারের উনুন এখন ঘরের দোতলায়। অপরদিকে,অতিবৃষ্টিতে বিভিন্ন গ্রামে সাপ মানুষের ঘরে আশ্রয় নিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে, আমন বীজতলা গত পাঁচদিন ধরে পানির নিচে তলিয়ে থাকায় তা নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। ফলে এ বছর আমন ফসল পাওয়া নিয়ে শংকিত হয়ে পড়েছে কৃষক। অপরদিকে ,জলাবদ্ধতায় ক্ষেতে থাকা বর্র্ষাকালীন সবজি সহ অন্যান্য সবজির ক্ষেতে পচঁন ধরেছে। এছাড়াও গো-খাদ্যের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। অনেকে আশে-পাশের অপেক্ষকৃত উচুঁস্থানে গরু-ছাগল নিরাপদে রেখেছেন।
এ ব্যাপারে কলাপাড়া উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়নের টিয়াখালী গ্রামের কৃষক মুনসুর আলী জানান, তাদের ঘরের মধ্যে পানিতে পানিতে থৈ থৈ করছে। দুু’দিন পাশের এক স্কুুুলে চুলা বসিয়ে রান্না করে খাওয়া-দাওয়ার কাজ সেরেছেন।
চাকামইয়া ইউনিয়নের চুঙ্গাপাশা গ্রামের কৃষক আবদুল জব্বার জানান, তার আয়ের উৎস জমির ধান। এবছর পানিতে পানিতে বীজতলা নষ্ট হওয়ায় আমন ফসল নিয়ে তিনি শংকিত হয়ে পড়েছেন।
নীলগঞ্জ ইউনিয়নের আদমপুর গ্রামের কৃষক মোতালেব জানান,তিনদিন ধরে পানি বন্ধী হয়ে পড়েছেন। প্রয়োজন হলে ডিঙ্গি নৌকা নিয়ে যাতায়াত করছি। তবে তার ক্ষেতের বর্র্র্ষাকালীন সবজি ক্ষেত পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
টিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান সুজন মোল্লা জানান,দু’দিন ধরে এলাকায় ঘুরে দেখছি, জলাবদ্ধতা নিরসনে আপ্রান চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ধানখালী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো.রিয়াজ তালুকদার জানান, পানি নিস্কাশনে আপ্রান চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। কেউ মাছ ধরার স্বার্র্থে যদি পানি আটকে রাখে,তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।