চঞ্চল সাহাঃ কলাপাড়ায় ইলিশ বিক্রিতে ব্যবসায়ীদের প্রতারনার অভিযোগ উঠেছে। সাধারন ক্রেতারা ইলিশ চিনে কিনতে না পারায় প্রতিনিয়ত প্রতারনার শিকার হচ্ছে। এতে অনেক ক্রেতাদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, কলাপাড়া পৌর এলাকার বিভিন্ন মাছ বাজার সহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন এবং আলীপুর-মহিপুর মাছ বাজার গুলোতে বর্তমানে ইলিশে ইলিশে সয়লাব হয়ে গেছে। এসব বাজার গুলোতে দু’টি জায়গা থেকে ইলিশ আমদানি হয়ে থাকে। একটি হচ্ছে পটুয়াখালীর রাংগাবালী উপজেলার বড়বাইশদা, অপরটি কলাপাড়া উপজেলার কুয়াকাটা, আলীপুর-মহিপুর মৎস্য বন্দর থেকে। এ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে অন্ততঃ দুই শতাধিক আড়তে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার ইলিশ বিক্রি হচ্ছে। এ দু’টি জায়গার ইলিশের মধ্যে বড় ব্ইাশদা এলাকার নদীর পানি মিষ্টি বলে ওই এলাকার ইলিশ তৈলাক্ত এবং সুস্বাদু। অপরদিকে, কুয়াকাটার বঙ্গোপসাগরের পানি তুলনামূলক লবনাক্ত। ফলে এলাকার ইলিশে তুলনামূলক স্বাদ কম। দুই জায়গার ইলিশে স্বাদের এ তারতম্য থাকার কারনে দামের পার্থক্য রয়েছে। বর্তমানে কুয়াকাটা কিংবা আলীপুর--মহিপুর এলাকার এক কেজি ইলিশ ১ হাজার টাকা। অপরদিকে,বড়বাইশদা এলাকার ্ইলিশ কেজি বিক্রি হচ্ছে ১হাজার ২০০ টাকা। কেজি প্রতি ২০০ টাকা দামের পার্থক্য থাকায় প্রতারক কতিপয় বিক্রেতারা কুয়াকাটা-আলীপুর-মহিপুরের ইলিশকে বড় বাইশদার ইলিশ বলে বিক্রি করছেন। এতে সাধারন ক্রেতারা না চেনার কারনে প্রতিনিয়ত কেজি প্রতি ২০০ টাকা বেশী দিয়ে কিনছে ইলিশ।
এ ব্যাপারে ক্রেতা হুমায়ুন কবির জানান, পৌরশহরের প্রধান মাছ বাজারটি থেকে ইলিশ কিনে কেজিতে ২০০ টাকা করে ঠকেছেন। তাকে স্বাদযুক্ত বড়বাইশদার ইলিশ বলে দিলেও আসলে দিয়েছেন মহিপুরের ইলিশ। তিনি ওই বাজার থেকে ইলিশ কিনবেন না বলে উল্লেখ করেন।
অপর এক ক্রেতা আবুল হোসেন জানান, কতিপয় প্রতারক মাছ ব্যবসায়ীরা সাধারন ক্রেতাদের ভুল বুঝিয়ে ইলিশ বিক্রি করছেন। তিনি নিজেও প্রতারকদের খপ্পরে পড়ে কেজি প্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেশী দিয়ে ইলিশ কিনেছেন।
আলী হোসেন নামে এক মাছ বিক্রেতা জানান, এরকম ঘটনা তিনি শুনেছেন, তবে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া উচিৎ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তবে পৌরশহর মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি বাবুল গাজী জানান, একেকজন ব্যবসায়ী একেকরকম হবে এটাই স্বাভাবিক। তবে প্রতারনা করে ইলিশ বিক্রি উচিৎ নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।