
আপন নিউজ অফিসঃ কলাপাড়া উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়নের ইটবাড়িয়া গ্রামে বেড়িবাঁধের উপর রাস্তা নির্মাণে উচ্ছেদ হতে যাওয়া কলোনীর ১৩৬ ভূমিহীন পরিবারের পুনর্বাসনের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন'র কাছে আবেদন করেছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায় এ পুনর্বাসনের জন্য ইউএনও'র কাছে আবেদন করেন।
এ সময় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের প্রতিনিধি ইব্রাহিম শিকারী, বাউল ফিরোজা বেগম, মোঃ ফোরকান হাওলাদার, মোঃ নুর হোসেন, আনোয়ার মিরা, মোঃ টিপু, মোঃ মনির হাওলাদার, হাসি বেগম সহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলো বাস্তুভিটাহীন হওয়ার কারণে সরকার তাদেরকে বসবাসের জন্য ইটবাড়িয়া গ্রামে আন্ধারমানিক নদীর পাড়ে বেড়িবাঁধের ঢালে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমিতে কলোনী করে দিয়েছিল। যার পর থেকে তারা দীর্ঘদিন ধরে বেড়িবাঁধের ঢালে বসবাস করে আসছে। সপ্রতি পায়রা বন্দরের প্রথম টার্মিনাল থেকে পায়রা বন্দর প্রশাসনিক ভবন হয়ে ঢাকা-কুয়াকাটা আঞ্চলিক সড়কের সাথে যুক্ত হওয়ার বিকল্প সড়ক হিসাবে পায়রা বন্দরের গেট থেকে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতু পর্যন্ত বেড়িবাঁধের উপর রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে। এই রাস্তা নির্মাণ করতে কলোনীসহ বেড়িবাঁধের ঢালে বসবাসকারী ১৩৬টি পরিবারকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে। ফলে ভূমিহীন মুক্ত কলাপাড়ায় নতুন করে ১৩৬টি পরিবার নতুন করে ভূমিহীন হতে যাচ্ছে।
এ সময়ে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সদস্যরা জানান যে, আমরা বেড়িবাঁধের বাইরের দিকে বসবাস করার ফলে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন প্রাকৃতিক দূর্যোগ যার মধ্যে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস এবং বর্ষাকালে জোয়ার-ভাটার পানিতে প্লাবিত হওয়া আমাদের নিত্যদিনের সঙ্গী। তারপরও মাছ ধরে, ইট ভাটায় কাজ করে, নির্মাণ শ্রমিক এবং কৃষি শ্রমিক হিসাবে কাজ করে টানা পোড়নের মধ্যে দিয়ে জীবন যাপন করে আসছি। নিজের কোন জমি না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রতিক‚লতার মধ্যেও আমরা বেড়িবাঁধের ঢালে বসবাস করে আসছি। এই জমির মালিক বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড তাই আমাদেরকে উচ্ছেদ করা হলেও কোন ধরনের ক্ষতিপূরণ বা পুনর্বাসন করা হবে না বলে আমরা জানতে পেরেছি। এই পরিস্থিতিতে মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয় হারালে আমাদের জীবন ধারণ স¤পূর্ণভাবে অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। উচ্ছেদের পরে আমরা কোথায় থাকবো, কি করবো কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন ক্ষতিগ্রস্থদের পুনর্বাসনের আবেদন গ্রহণ করেন তাদের বর্তমান পরিস্থিতি মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং তাদেরকে আশ্বস্ত করেন যে পুনর্বাসনের জন্য প্রয়োজন ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আশ্বাস দেন।
কলাপাড়া উপজেলায় বৃহৎ প্রকল্পগুলোর মধ্যে পায়রা বন্দরে ক্ষতিগ্রস্থ ৩,৪২৩ টি পরিবারকে পর্যায়ক্রমে পুনর্বাসন করা হচ্ছে। পাশাপাশি পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ক্ষতিগ্রস্ত ১৩০টি পরিবারকে স্বপ্নের ঠিকানা নামক পুনর্বাসন কেন্দ্রে পুনর্বাসিত করা হয়েছে। পটুয়াখালী ১৩২০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র (আরএনপিএল) এর ক্ষতিগ্রস্ত ২৮১টি পরিবারের জন্য 'আনন্দপল্লী' এবং 'স্বপ্ননীড়' নামে দুইটি পুনর্বাসন কেন্দ্রের নির্মাণ করা হয়েছে। একইসাথে পটুয়াখালী ১৩২০ মেগাওয়াট সুপারথার্মাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র (আশুগঞ্জ) নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্ত ১৮০টি পরিবারের জন্য পুনর্বাসন কেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলছে। অন্য দিকে আমাদেরকে উচ্ছেদ করা হলেও কোন ধরনের পুনর্বাসন, ক্ষতিপূরণ অথবা সহযোগীতা করা হচ্ছে না। এমতাবস্থায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের পুনর্বাসনের কোন উদ্যোগ গ্রহণ না করে রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু করা হলে পরিবারগুলো ভূমিহীন হয়ে পড়বে।
উল্লেখ্য, গত মাসে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলো কলাপাড়া প্রেস ক্লাব চত্বরে একটি মানববন্ধন করে পুনর্বাসনের দাবী জানান। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাদের পুনর্বাসনের কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।