আপন নিউজ অফিসঃ কলাপাড়ায় স্বামী-স্ত্রীর বিরোধের জের ধরে শশুরবাড়ির লোকজন জামাই সহ ৩ জনকে কুপিয়ে জখম করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আহতদের রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করেন স্বজনরা।
এরা হলেন, জামাই বাহাদুর হোসেন (৩৫) ও তার ছোট ভাই আবু বক্কর সিদ্দিক (৩০), মোঃ আব্দুল রহমান (২৫)। বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায় উপজেলার চাকামইয়া ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড দারোগারতবক গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় বাহাদুর হোসেন বাদী হয়ে স্ত্রী মাজনুদা বেগম (২৬) ও স্ত্রীর ভাই মোঃ জাফর হাওলাদার (৪০), আঃ খলিল হাওলাদার (৩০) জামাল হাওলাদার (৪৫), মোঃ আঃ রহমান হাওলাদার (৩৬), এবং স্ত্রীর ভাইয়ের ছেলে মোঃ আবু সাঈদ হাওলাদার (২০) কে আসামি করে কলাপাড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগে বাহাদুর হোসেন বলেন, মাজনুদা বেগম আমার স্ত্রী, যোঃ জাফর হাওলাদার, আঃ খলিল হাওলাদার, জামাল হাওলাদার, মোঃ আঃ রহমান হাওলাদার গত অনুমান ১০ বছর পূর্বে ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক বিবাহ হয়। আমাদের দাম্পত্য জীবনে মোসাঃ সানজিদা আক্তার ও মোসাঃ মহিমা আক্তার নামে দুইজন কন্যা সন্তান রয়েছে।বিবাহের পর থেকে আমার স্ত্রী আমার সাথে ঢাকায় ভাড়াটিয়া বাসায় বসবাস করে। আমাদের গ্রামের বাড়িতে আমার বাবা মা বসবাস করে। চলতি বছরের কোরবানীর ঈদে আমি আমার ছোট ভাই আবু বক্কর সিদ্দিক ও মোঃ আব্দুল রহমান সকলে গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে আসি। তিনি আরও বলেন, ১৯ জুন বুধবার রাতে সাংসারিক তুচ্ছ বিষয় নিয়ে আমার স্ত্রীর সাথে সামান্য কথার কাটাকাটি হয়। উক্ত কথা কাটাকাটির জের ধরে আমার স্ত্রী আমাকে গালিগালাজ করে এবং বিভিন্ন ধরণের হুমকি ধামকি ও ভয়ভীতি প্রদান করে। তখন আমার ছোট মেয়ে মোসাঃ মহিমা আক্তার বাহিরে বাথরুমে যেতে চাইলে আমি তাকে নিয়ে বাহিরে যাই। এই সুযোগে আমার ঘরে থাকা স্বর্ণের একজোড়া কানের দুল যার ওজন ৮ আনা, মূল্য অনুমান একান্ন হাজার টাকা, স্বর্ণের গলার চেইন ওজন ও আনা, মূল্য অনুমান ত্রিশ হাজার টাকা, স্বর্গের হাতের আংটি ০১ টি, ওজন ৪ আনা, নগদ এক লক্ষ পঁচানব্বই হাজার টাকা, আমার ব্যবহৃত একটি অপো এ্যান্ড্রোয়োড মোবাইল ফোন চুরি করে নিয়ে তার বাবার বাড়িতে চলে যায়। পরবর্তীতে আমি ঘরে আসে আমার স্ত্রীকে ডাকাডাকি করলে না পেয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করি এবং পরবর্তীতে জানতে পারি আমার স্ত্রী উক্ত মালামাল ও টাকা পয়সা সহ তার বাবার বাড়িতে আছে। পরবর্তী বৃহস্পতিবার ২০ জুন সকাল অনুমান ৭ টায় আমি আমাদের গৃহপালিত ১০টি গরু বাড়ির সামনে বিলের মধ্যে ঘাস খাওয়ানোর জন্য বাঁধে রাখি। একই তারিখ সকাল অনুমান সাড়ে ৯ টায় সকল আমার স্ত্রীর নির্দেশে অন্যান্য সকল আসামীরা পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে একই উদ্দেশ্যে বে-আইনী জনতাবদ্ধে লোহার রড, শাবল, দা, রামদা, লাঠি-সোটা সহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র-সন্ত্র নিয়ে আমার গৃহপালিত উক্ত গরুগুলি নিয়ে যাওয়ার পায়তারা করে। তখন আমি এই ঘটনা দেখতে পাই আসামীদের বাঁধা দিতে গেলে সকল আসামীরা আমার উপর উত্তেজিত হয়ে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে এবং আমাকে এলোপাথারী ভাবে মারপিট করে আমার শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলা-ফুলা জখম করে। আমার ডাক চিৎকারে আমাকে রক্ষার জন্য আমার ভাইয়েরা এগিয়ে আসলে ভাইদের ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে।
এ ব্যাপারে কলাপাড়া থানার ওসি মোঃ আলী আহম্মেদ বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত-পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।