আমতলী প্রতিনিধিঃ মাইক্রোবাস গাড়ীর কাচ ভেঙ্গে শিশু কন্যা সাফরিনসহ বের হন মালায়েশিয়া প্রবাসী সোহেল খাঁন। পরে সাত মাসের শিশুকে কচুরীপানার ওপর ফেলে রেখে বোন সুরমা আক্তার, শালিকা সুইটি ও ভাইয়ের স্ত্রী বিষা আক্তারকে উদ্ধার করেন তিনি। কিন্তু জীবন সঙ্গী রাইতি খাঁনকে উদ্ধার করতে পারেনি। নদীতে তলিয়ে যাওয়া মাইক্রোবাস থেকে নয় লাশের মধ্যে ছিলেন তার স্ত্রী রাইতি খাঁনকে উদ্ধার করা হয়। শিশু কন্যা সাফরিনসহ চারজনকে উদ্ধার করলেও আমার স্ত্রীকে উদ্ধার করতে পারিনি। আমি এখন কাকে নিয়ে বাচবো। আমার শিশু কন্যাকে নিয়ে আমি এখন কোথায় যাব? এমন বিলাপ করছে কান্না করছিলেন শিশু কন্যা সাফরিনের বাবা সোহেল খাঁন। কান্না জনিত কন্ঠে তিনি আরো বলেন, আমার আর কিছুই রইলো না। এই নিস্পাপ শিশু কন্যাকে কিবুঝ দেব? এমন মৃত্যু যেন আর কাউকে আল্লাহ না দেন। তবে তিনি তদন্তপুর্বক ঘটনার সুষ্টু বিচার দাবী করেছেন।
জানাগেছে, আমতলী উপজেলা কাউনিয়া ই্ব্রাহিম একাডেমি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক দক্ষিণ তক্তাবুনিয়া গ্রামের মাসুম বিল্লাহ মনিরের মেয়ে মরিয়ম বিল্লাহ হুমায়রার সঙ্গে একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আমতলী পৌর শহরের খোন্তাকাটা এলাকার বাসিন্দা সেলিম মাহমুদের ছেলে ডাঃ সোহাগের বিয়ে হয়। গত শুক্রবার ওই কনেকে বরের বাড়ী তুলে নেন। শনিবার মেয়ের পক্ষের লোকজন বরের বাড়ীতে মাইক্রোবাস এবং অটো গাড়ীতে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে হলদিয়া হাট সেতু পাড় হওয়ার সময় সেতুর মাঝের অংশ ভেঙ্গে মাইক্রোবাস ও অটো গাড়ী নদীতে তলিয়ে যায়। অটোতে থাকা যাত্রীরা সকলে সাতরে কিনারে উঠতে পারলেও মাইক্রোবাসের যাত্রীরা নদীতে তলিয়ে যায়। তাৎক্ষনিক স্থানীয়রা ওই মাইক্রোবাসে থাকা লোকজনকে উদ্ধারের চেষ্টা চালায় বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শী নাশির উদ্দিন। ততক্ষণে মাইক্রোবাসে থাকা কনে পক্ষের ৯ যাত্রী নিহত হয়েছে। নিহত নয় জনের মধ্যে সাতজন মাদারিপুর জেলার শিবচর উপজেলার ভদ্রাসন গ্রামের বাসিন্দা।