আপন নিউজ অফিসঃ ফ্যানের সাথে ফাঁস লাগানো অবস্থায় কলাপাড়া উপজেলার বালিয়াতলী ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড হাড়িপাড়া গ্রামের রাহাত ঢালীর স্ত্রী অনিকা বেগম (২২)'র মৃতদেহ উদ্ধার এবং কোমল পানীয় ভেবে কীটনাশক পানে লতাচাপলী ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড আলীপুর গ্রামের জিয়াউদ্দিন জাকির'র কন্যা নূরে জান্নাত মায়মুনা (৮)'র মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (০১ জানুয়ারি) উপজেলার বালিয়াতলী ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড হাড়িপাড়া ও লতাচাপলী ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড আলীপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
(১) বালিয়াতলী ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড হাড়িপাড়া গ্রামের ঘটনা,
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ বছর পূর্বে আনিকার সাথে তার হাড়িপাড়া গ্রামের রাহাত ঢালীর প্রেমের সম্পর্ক করে বিবাহ হয়। বিবাহের পর থেকে তাদের সংসারে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শাশুড়ি ও স্বামীর ঝগড়াঝাঁটি লেগেই থাকতো। তাদের দাম্পত্য জীবনে রাহাতের ঔরসে ভিকটিম অনিকার গর্ভে রাইসা মনি (২) নামের কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করেন। রাহাত দিনমজুরের কাজ করে বুধবার সকাল বেলা কাজ করার জন্য বালিয়াতলী বাজারে যায় এবং সন্ধ্যার পরে মৃত আনিকার শাশুড়ি আসমা বেগম মাসুদের বাসায় যায়। ঘরে মৃত আনিকার আপন ছোট ভাই মোঃ হাসান ছিল তাকে ঘর থেকে বাহির করে দিয়ে ভিতরের রুমের দরজা বন্ধ করে দিলে মৃত আনিকার ভাই হাসান শাশুড়ি আসমা বেগম কে ডাকার জন্য পার্শ্ববর্তী মাসুদের বাড়িতে যায়। হাসান ও শাশুড়ি আসমা বেগম বাড়িতে আসে ঘরের দরজা বন্ধ দেখে কৌশলে জাননা জালনা খুলে মৃত আনিকাকে ফ্যানের সাথে ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলতে দেখে ডাক চিৎকার করেলে আশপাশের লোকজন আসে মৃত আনিকাকে নামিয়ে মহেন্দ্র যোগে কলাপাড়া হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসাকে শেষে রাত তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আনিকার মৃত্যুর পর পর স্বামী রাহাত ঢালী ও শাশুড়ি আসমা বেগম পলাতক রয়েছে।
(২) লতাচাপলী ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড আলীপুর গ্রামের ঘটনা,
বুধবার বিকেলে নূরে জান্নাত মায়মুনা (৮) বসত ঘরে বসে খেলা করছিল, গত এক সপ্তাহ পূর্বে মৃত নূরে জান্নাত মায়মুনা পিতা জিয়াউদ্দিন জাকির তার বাড়িতে সবজির বাগানে কীটনাশক দেয়, কিছু কীটনাশক অবশিষ্ট থাকলে উক্ত কীটনাশক বোতলে করে ঘরের খুঁটির সাথে ঝুলিয়ে রাখে। উক্ত কীটনাশককে কোমল পানীয় ভেবে কীটনাশক খেয়ে ফেলে কিছু সময়ের মধ্যেই যন্ত্রনা শুরু হলে নূরে জান্নাত মায়মুনা'র বিষের যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকে, উক্ত দৃশ্য তার মা ও বোন দেখে ডাক চিৎকারে আশপাশের লোকজন তাকে মোটরসাইকেল যোগে কলাপাড়া হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।