স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা: খুলনায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ নেতা রণবীর বাড়ই সজলের (৩৫) মুক্তির দাবিতে পোস্টার লাগিয়েছে তার অনুসারীরা। তার বিরুদ্ধে হত্যা, মাদক, হামলা, অস্ত্রসহ বিভিন্ন থানায় সাতটি মামলা রয়েছে।
পোস্টারে উপরে বঙ্গবন্ধু, শেখা হাসিনা ও সজীব ওয়াজেদ জয়ের ছবি। মাঝে একাধিক মামলার আসামি সজল এবং নিচে সুরঞ্জিত বিশ্বাস নামে একজন অনুসারীর ছবি। পোস্টারে সজলকে ছাত্রলীগের পরীক্ষিত কর্মী হিসেবে উল্লেখ করে নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করা হয়েছে।
জানা যায়, সুরঞ্জিত বাগেরহাট জেলার চিতলমারী থানার উমাজুরি গ্রামের কৃষক সুবোধ বিশ্বাসের ছেলে। নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ছত্রছায়ায় হয়েছেন রাতারাতি কোটিপতি। সম্প্রতি কোটি টাকা দিয়ে তিনি একদাগে কিনেছেন ৫ বিঘা জমি। এর মধ্যে বাগিয়ে নিয়েছেন সরকারি চাকরিও। ছাত্র আন্দোলন দমাতে সক্রিয় থাকার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও জানুয়ারির ১ তারিখ পটুয়াখালীর সোনালী ব্যাংকে অফিসার (ক্যাশ) পদে যোগদান করেছেন। আগস্টে তিনি খুলনা ছাড়লেও নজর রাখছেন খুলনার রাজনীতিতে।
সুরঞ্জিতের কোটিপতি হওয়ার রহস্য জানতে তাকে ফোন করলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ব্যস্ততা দেখিয়ে ফোন কেটে দেন। তবে তার মা ৫ বিঘা জমি কেনার কথা স্বীকার করেন। সুরঞ্জিত বাড়ি বানানোর প্রস্তুতিও নিচ্ছে বলে জানান। তবে রাতারাতি এত টাকা কোথায় পেলো, সে প্রশ্নের কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে খুলনা মহানগরের একজন ছাত্রদল নেতা বলেন, জুলাই মাসে আন্দোলন চলাকালে ছাত্রদের ওপর হামলার নেতৃত্ব দিয়েছেন সজল। সে গ্রেফতার হলেও সুরঞ্জিতরা থেমে নেই। গোপনে ও প্রকাশ্যে চালাচ্ছেন তৎপরতা।এই বাহিনীর সদস্যরা তৎপর থাকায় অবনতি ঘটছে খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির।
এদিকে নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রমে জড়িত থাকার প্রমাণ পেলে সুরঞ্জিতের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।