এস এম আলমগীর হোসেনঃ কলাপাড়ায় আবারও এক প্রসূতির মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছে চিকিৎসকদের অবহেলায়। উপজেলাজুড়ে বেসরকারি ক্লিনিকগুলো যেন পরিণত হয়েছে 'সিজার বাণিজ্যের' কেন্দ্রস্থলে। অভিযোগ রয়েছে, কলাপাড়ায় সরকারি হাসপাতালে যাওয়া গর্ভবতী নারীদের ডাক্তার ও ক্লিনিকের পালিত দালালদের মাধ্যমে নিয়ে যাওয়া হয় বিভিন্ন ক্লিনিকে, যেখানে চলছে অপ্রয়োজনীয় সিজার অপারেশনের প্রতিযোগিতা।
সবচেয়ে সাম্প্রতিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে চম্পাপুর ইউনিয়নের পাটুয়া গ্রামে। নিহত গৃহবধূ তামান্না (২২), স্বামী রওসানের সাথে শনিবার দুপুর ১২টায় কলাপাড়া হাসপাতালে আসে, সেখানে কতিপয় ডাক্তারের দালাল কলাপাড়া ক্লিনিকে নিয়ে যায়, অনুমতি ছাড়াই সন্ধ্যা ৬টায় তার সিজারিয়ান অপারেশন করা হয় বলে রোগীর আত্মীয়-স্বজনরা জানিয়েছেন। কিন্তু অপারেশনের সময় চিকিৎসকের ভুলে অবস্থা অবনতি হলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি করে রোগীকে প্রাইভেট এম্বুলেন্সে বরিশালে রেফার করে। এ সময় তামান্নার স্বজনদের সন্দেহ হলে তাকে বরিশালের পরিবর্তে দ্রুত আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. পার্থ সমাদ্দার ও ডা. মুনতাহা মারিয়াম মিতু সিজার করেন। ডা. পার্থ সমাদ্দার ও ডাঃ জেএইচ খান লেলীন এরআগেও এই ক্লিনিকে এক ভুল চিকিৎসায় নাচনাপাড়ার কলোনির এক প্রসূতির মৃত্যু হয়। প্রসূতির ঘটনায় চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও গণমাধ্যমে লেখালেখি হলে। পরে টাকার কাছে সব বন্ধ হয়ে যায় সব অভিযোগ ও লেখালেখি।
তামান্নার স্বামী রওশন মাতব্বর অভিযোগ, সময় মতো যথাযথ চিকিৎসা না দেওয়ায় এবং অপারেশনের সময় গাফিলতির কারণেই এই মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। তারা আরও বলেন, ক্লিনিকের কেউ স্পষ্টভাবে কিছু জানাচ্ছেন না, উল্টো ঘটনা ধামাচাপা দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে তারা।
গত ফেব্রুয়ারি-২০২৫ মাসে রাঙ্গাবালীর মৌডুবী থেকে প্রসাববেদনা নিয়ে প্রসূতি কলাপাড়া হাসপাতালে আসলে ওঁৎ পেতে থাকা রোগী ধরা দালাল আব্দুল রহিম ওই প্রসূতি কে হাসপাতালে ভর্তি না করিয়ে প্রাইভেট হাসপাতাল ম্যাক্সে নিয়ে যায়, সেখানে রোগীকে কোন প্রাথমিক চিকিৎসা না দিয়ে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে শুরু করে, কতক্ষন পর ছটফট করে মারা যান। সেই আগের মতই সাথে সাথে তাড়াহুড়ো করে কলাপাড়া হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন, সেখানে কর্মরত চিকিৎসক তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন।
চলছে সিজার নিয়ে প্রতিযোগিতা
স্থানীয়দের দাবি, কলাপাড়ার বেশিরভাগ ক্লিনিকেই স্বাভাবিক প্রসবের চেয়ে সিজারিয়ান অপারেশনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এতে রোগী ও পরিবারের অনিচ্ছা থাকলেও বিভিন্ন ভীতি দেখিয়ে ও ভুল তথ্য দিয়ে সিজার করানো হচ্ছে। এর পেছনে রয়েছে আর্থিক লাভের অপপ্রয়াস।
প্রশাসনের নীরবতা
এতসব অভিযোগ ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন বা স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে তেমন কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
তদন্ত ও বিচার দাবি
তামান্নার স্বজন সহ এলাকাবাসীরা এই সব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ী চিকিৎসক ও ক্লিনিক মালিকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।