আমতলী প্রতিনিধিঃ জমি বিক্রি করে টাকা না দেয়ায় দ্বিতীয় স্ত্রী সালমা আক্তারকে স্বামী খোকন তালুকদার লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সালমা বেগম এমন অভিযোগ করেছেন। স্বজনা তাকে উদ্ধার করে বৃহস্পতিবার আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে। ঘটনা ঘটেছে আমতলী পৌরসভার খোন্তাকাটা এলাকায় বুধবার রাতে।
জানাগেছে, ২০২৩ সালে পটুয়াখালী সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া গ্রামের মজিদ তালুকদারের ছেলে খোকন তালুকদার (৪৮) তুলে নিয়ে আমতলী উপজেলার গোজখালী গ্রামের মৃত্যু মুজাফ্ফর মুন্সির মেয়ে সালমা আক্তারকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে সালমা আক্তারের নামে থাকা ৪ কাঠা জমি বিক্রি করে টাকা এনে দিতে বলে স্বামী খোকন তালুকদার। এতে রাজি না হওয়ায় বহুবার মারধর করেছে বলে অভিযোগ স্ত্রী সালমা আক্তারের। বুধবার রাতে জমি বিক্রির বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দ্বন্ধ হয়। এক পর্যায় লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। নির্যাতনে তার সারা শরীরের রক্তাক্ত জখম হয়। নির্যাতন শেষে তাকে ঘরের মধ্যে আটকে রেখে স্বামী খোকন পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে।
আহত স্ত্রী সালমা আক্তার বলেন, খোকন তালুকদার আমাকে তুলে নিয়ে জোর করে বিয়ে করেছে। বিয়ের পর থেকে আমার নামে থাকা ৪ কাঠা জমি বিক্রি করে তাকে টাকা দিতে বলে। আমি এতে রাজি না হওয়ায় গত ৩ বছরে আমাকে বহুবার নির্যাতন করেছে। তার বিরুদ্ধে আমি বেশ কয়েকবার থানায় অভিযোগ দিয়েছি। বুধবার রাতে আমাকে জমি বিক্রি করে টাকা এনে দিকে বলে। আমি এতে রাজি না হওয়ায় আমাকে লোহার রড দিলে পিটিয়ে সারা শরীরের রক্তাক্ত জখম করেছে। আমি এ ঘটনার তার শাস্তি দাবী করছি।
এ বিষয়ে জানতে খোকন মৃধার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাঃ রাশেদ মাহমুদ রোকনুজ্জামান বলেন, সালমার শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখমের চিহৃ রয়েছে। তাকে যথাযথ চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আমতলী থানার ওসি মোঃ আরিফুল ইসলাম আরিফ বলেন, বিষয়টি জেনেছি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।