আপন নিউজ ডেস্কঃ কলাপাড়ায় আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ইরি) এর সিজিআইএআর- সাসটেইনেবল ফার্মিং প্রোগ্রামের আওতায় উচ্চ ফলনশীল ঘাস ‘জারা’ এর কার্যকারিতা বিষয়ক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ মে) বিকেলে উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়নের নাচনাপাড়া গ্রামের পীর সাহেব বাড়িতে কৃষক শাহনেওয়াজ আহম্মেদ তানভিরের ঘাস চাষের প্লটে এ মাঠ দিবসের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ইরি’র রিসার্চ টেকনিশিয়ান মোঃ রবিউল ইসলাম। মাঠ দিবসে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডাঃ মারুফ বিল্লাহ খান এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি উন্নয়ন ও গবেষণা কর্মকর্তা ইরি’র মানিক দেবনাথ।
বক্তারা বলেন, গবাদিপশুর খাদ্য সংকট মোকাবিলায় উন্নত জাতের ঘাস চাষ একটি গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর উদ্যোগ। জারা ও স্মার্ট নেপিয়ার জাতের ঘাসগুলো উচ্চ ফলনশীল এবং প্রোটিন সমৃদ্ধ হওয়ায় পশু খাদ্য হিসেবে এটি অত্যন্ত উপযোগী।
উদ্যোক্তা তানভির জানান, এলাকার প্রয়োজন অনুযায়ী তিনি ঘাসের কাটিং সরবরাহ করবেন। আলোচনা শেষে যন্ত্রের সাহায্যে ঘাস কেটে তার কার্যকারিতা সরেজমিনে দেখানো হয় এবং উপস্থিত কৃষক-কৃষানীরা ঘাসের প্লট ঘুরে দেখেন।
জানা যায়, ১ বিঘা জমিতে জারা ও স্মার্ট নেপিয়ার জাতের ঘাস চাষ করা হয়েছে। প্রতিটি ঘাস প্রায় ১২-১৪ ফুট উচ্চতা সম্পন্ন এবং প্রতি গোছায় ২৪-২৫টি কুশি রয়েছে।
ডাঃ মারুফ বিল্লাহ খান ইরি’র এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান এবং ভবিষ্যতে ঘাস চাষ সম্প্রসারণে প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
মানিক দেবনাথ জানান, কলাপাড়া ও আমতলী উপজেলায় আরও ১ লাখ ঘাস কাটিং বিতরণের মাধ্যমে বেশ কয়েকজন উদ্যোক্তা তৈরি করা হচ্ছে, যাদের মাধ্যমে খামারী ও গৃহস্থ পর্যায়ে ঘাস চাষ বিস্তৃত হবে।
এ সময় স্থানীয় প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদ অফিসের সহযোগিতায় রাস্তার পাশে ঘাসের কাটিং লাগানোর পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রায় ৬০ জন কৃষক-কৃষানী এবং গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।