আব্দুল কাইয়ুম আরজু, কুয়াকাটাঃ “রেষা রেষি” নামের একটি নাটকে আপত্তিকর দৃশ্য প্রচারের অভিযোগ এনে কুয়াকাটা মাল্টিমিডিয়া ও অভিনেতা সাদ্দাম মাল ও মাসুদ পারভেজ সাগরকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
গত ২২ মে, রবিবার কলাপাড়া উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা রবিউল আউয়াল অন্তরের পক্ষে এই নোটিশ দেন আইনজীবী জেড এম কাওছার।
অভিযোগে বলা হয়, নাটকটির একাংশে রবিউলের মানহানি হয়েছে এবং বিষয়টি তার সামাজিক মর্যাদাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এ বিষয়ে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। না হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
সূত্রে জানা গেছে, কুয়াকাটা মাল্টিমিডিয়ার পরিচালকের একক আধিপত্যের দ্বন্দ্বে প্রধান চরিত্রের একটি টিম ভাগ হয়ে যায়– দীর্ঘদিন আগেই সাদ্দাম মাল, মাসুদ পারভেজ সাগর, এসএম আলমাস শিকদার, নিজাম উদ্দিনসহ কুয়াকাটা মাল্টিমিডিয়া থেকে অভিনয় অঙ্গনে যাত্রা শুরু করা, এই অভিনেতারা কুয়াকাটা মাল্টিমিডিয়া ত্যাগ করেন।
এদিকে নাটকে অভিনীত মানহানীর বিষয়ে অভিনেতা সাদ্দাম মালের ভক্ত ও দর্শকরা প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন মন্তব্য করছেন। কুয়াকাটা মাল্টিমিডিয়ার নাম লিগ্যাল নোটিশে অন্তর্ভুক্ত করাকে ওই টিমের একাধিক সংশ্লিষ্টরা তাদের প্লাটফর্মের সুনাম নষ্ট হয়েছে বলে অভিযোগ।
কামাল হোসেন রনি নামের স্থানীয় একজন সচেতন নাগরিকের মন্তব্য, রবিউল আউয়াল অন্তর নামে একজন অসুস্থ মানুষের মনে হয়েছে এই নাটকের তারে নিয়া কিছু দৃশ্য দেখানো হয়েছে। এই ছেলে কিছুদিন আগে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছে। নিজে নিজে গুম হয়ে সারাদেশে আলোড়ন তুলেছে। তারপরেও যখন কোন টাইম লাইনে আসতে পারেনি, তখন এই প্রতিভাবান অভিনয় শিল্পীদের বিরুদ্ধে লেগেছে। আর যিনি আইনজীবী তিনি এক সময় বিএনপির কর্মী ছিলেন, এখন চরমোনাই এর মুরিদ। অনেক সময় টাকার কাছে বিবেক বিক্রি করা যায় না। এসব অপরিপক্ক মগজ ওয়ালা পোলাপান যখন এসব করতে আসে তখন তাদেরকে অটো ভাড়া দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দিতে হয়। এই আইনজীবী হয়ত টাকার লোভ সামলাতে পারেননি।
এবিষয়ে অভিনেতা মাসুদ পারভেজ সাগর জানান, আমরা সমাজের নানা অসঙ্গতি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল-মতের প্রশ্নবিদ্ধ কর্মকাণ্ডগুলোকে অভিনয়ের মাধ্যমে তুলে ধরে জনসচেতনতায় কাজ করি। আমাদের অধিকাংশ গল্প কাল্পনিক। আমরা কখনোই কারো ব্যক্তি স্বার্থে লাগে এহেন কোনো গল্প, কিংবা কাউকে ছোট করিনা। আমাদের গল্পের সাথে– অভিযোগকারী অন্তর সাহেবের সাথে মিশে যাওয়ার ঘটনার সাথে আমাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমরা তার নাম অথবা তাদের সংগঠনের নাম কোথাও নেইনি। সে কিভাবে এটিকে তার ব্যক্তিগত জীবনের সাথে সম্পৃক্ত করলো আমাদের বুঝে আসেনা। এটা ছিল সম্পূর্ণ কাল্পনিক।
কুয়াকাটা মাল্টিমিডিয়ার পরিচালক শুভ কবির জানান, সাদ্দাম মাল তাদের সদস্য নন এবং নাটকটি তাদের প্ল্যাটফর্মে প্রচারিত হয়নি। তবে লিগ্যাল নোটিশে কুয়াকাটা মাল্টিমিডিয়ার নাম কেন উল্লেখ করা হয়েছে? এতে আমাদের কুয়াকাটা মাল্টিমিডিয়ার সুনাম ক্ষুন্ন হয়েছে। এছাড়া অভিনেতা সাদ্দাম মাল তার নিজ ইচ্ছায় আমাদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে কুয়াকাটা মাল্টিমিডিয়ায়া ছেড়ে চলে গিয়েছেন। তার সাথে সাথে সাগর, আলমাস, তারা কোন আলোচনা ছাড়াই তার সাথে চলে গিয়েছে। নিজাম ভাই চলে গিয়েছিল, কিন্তু সে আবার আমাদের টিমে যুক্ত হয়েছেন। দীর্ঘ ২ মাস ধরে তিনি আমাদের সাথে কাজ করছেন।
অভিনেতা সাদ্দাম মাল জানান, নাটকের গল্প কাল্পনিক ও কারও উদ্দেশে তৈরি নয়। কেউ আঘাতপ্রাপ্ত মনে করলে তা অনাকাঙ্ক্ষিত।
ঘটনার তদন্ত ও পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।