আপন নিউজ ডেস্কঃ কলাপাড়া উপজেলায় বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় আন্তঃজেলা চোর চক্রের দুই সদস্যকে হাতে-নাতে আটক করেছে এলাকাবাসী। পরে পুলিশ এসে চোরাইকৃত মালামালসহ তাকে হেফাজতে নেয়।
জানা গেছে, ৩০ জুলাই দিবাগত রাতে (৩১ জুলাই গভীররাতে) আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটের দিকে কলাপাড়া উপজেলার বালিয়াতলী ইউনিয়নের আমতলীপাড়া এলাকায় পল্লী বিদ্যুতের একটি ট্রান্সফরমার (সিরিয়াল নম্বর: ১৩৮৫) চুরি করার উদ্দেশ্যে একদল চোর ঘটনাস্থলে আসে। চুরি করার সময় অসাবধানতাবশত ট্রান্সফরমারটি নিচে পড়ে গেলে শব্দ শুনে স্থানীয়রা বাইরে বের হয়ে আসে। এতে আতঙ্কিত হয়ে চোরেরা ট্রান্সফরমারের ভেতরে থাকা আনুমানিক ১৫ কেজি তামা (মূল্য প্রায় ১৫ হাজার টাকা) চুরি করে পালিয়ে যায় এবং বাকি অংশ ঘটনাস্থলেই ফেলে রেখে যায়।
পরদিন দুপুর ২টার দিকে এজাহারভুক্ত দুই আসামী মো. আমির হোসেন (৪৩) ও মো. রাজিব হাওলাদার (২৫) আবার ঘটনাস্থলে এসে ফেলে যাওয়া তামা নিয়ে যেতে গেলে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। এলাকাবাসী ধাওয়া দিয়ে আমির হোসেনকে হাতেনাতে ধরে ফেলে। এ সময় রাজিব পালিয়ে যায়। পরে কলাপাড়া থানার এসআই শাহ আলম সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে আসামী ও চোরাই মালামাল জব্দ করেন।
ধৃত আসামী আমির হোসেনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী পুলিশ রাজিবের বসতঘরে অভিযান চালিয়ে চুরির কাজে ব্যবহৃত ২০ গজ লম্বা ২টি পুরাতন লায়লনের রশি, ২টি লোহার সাবল, ১টি হ্যাকসো ব্লেড ও ১টি বড় বরশি উদ্ধার করে। একই সূত্র ধরে এজাহারভুক্ত আরেক আসামী মো. ছলেমান (৩২) কে গ্রেফতার করা হয়।
কলাপাড়া থানার ওসি মোঃ জুয়েল ইসলাম জানায়, আমির, ছলেমান, রাজিব ও পলাতক আসামী মো. জাহাঙ্গীর একটি আন্তঃজেলা বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের নির্জন এলাকায় পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি থেকে ট্রান্সফরমার ও ভেতরের মূল্যবান ধাতব পদার্থ তামা চুরি করে এবং তা বিক্রি করে থাকে।
তিনি আরো জানান, এ বিষয়ে কলাপাড়া থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। পুলিশ পলাতক আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।