আপন নিউজ ডেস্কঃ কলাপাড়া উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের পশ্চিম লোন্দা গ্রামে টিয়াখালী নদীর অস্বাভাবিক জোয়ারে বাড়িঘর, রাস্তাঘাট ও কৃষিজমি বারবার প্লাবিত হয়ে পড়ছে। এ পরিস্থিতিতে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও এলাকাবাসী বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে বৈঠক করেছেন।
রবিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১২টায় বাপাউবো’র প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বরিশাল বিভাগীয় পরিবেশ ও জনসুরক্ষা ফোরামের কয়েকজন সদস্যও উপস্থিত ছিলেন। পরে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষে দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলীর কাছে একটি লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়।
বাপাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর) নাসরিন ইসলাম মুক্তি এবং সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মো. ফজলুর রহমান রাজীব ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সাথে আলোচনায় অংশ নেন। এসময় বীর মুক্তিযোদ্ধা আমিনুল ইসলাম ফকু, কৃষক মো. মোশারফ হাওলাদার, মো. নূর ইসলাম, সোহেল মোল্লা, মো. আমিরুল হাওলাদার, মো. বেল্লাল, মরিয়ম জাহান মৌরি, মোসাঃ সোমা, গবেষক মোসাঃ হালিমা আয়শা প্রমুখ মতামত তুলে ধরেন। এছাড়া পরিবেশ ও জনসুরক্ষা ফোরামের আহ্বায়ক শুভঙ্কর চক্রবর্তী ও সদস্য আখতারুল কবিরও বক্তব্য রাখেন।
ক্ষতিগ্রস্তরা বলেন, “আমরা প্রায় ২৫০টি দরিদ্র পরিবার দীর্ঘ ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে পশ্চিম লোন্দা গ্রামে বসবাস করছি। জোয়ার-ভাটার পানিতে আমাদের ঘরবাড়ি, কৃষিজমি ডুবে যায়। ছেলে-মেয়েরা স্কুলে যেতে পারে না, অসুস্থ মানুষকে হাসপাতালে নেওয়া যায় না, এমনকি রান্নার চুলায়ও পানি উঠে যায়। মানবেতর এই জীবন থেকে বাঁচতে আমাদের জন্য টেকসই বেড়িবাঁধ ও সুইসগেট নির্মাণ জরুরি।”
বীর মুক্তিযোদ্ধা আমিনুল ইসলাম ফকু বলেন, “আমাদের প্রায় ২০০ একর জমি পানিতে তলিয়ে থাকে। তিন ফসলী জমি হওয়া সত্ত্বেও আমরা এক ফসলও তুলতে পারি না। টেকসই বেড়িবাঁধ ছাড়া এই এলাকার মানুষ টিকে থাকতে পারবে না।”
গবেষক হালিমা আয়শা জানান, স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরা দুই মাসের গবেষণায় দেখেছেন-কৃষি উৎপাদন কমে যাওয়া, যাতায়াত ও শিক্ষার সমস্যাসহ সব সংকটের মূলে রয়েছে বেড়িবাঁধের অভাব।
নির্বাহী প্রকৌশলী ক্ষতিগ্রস্তদের সমস্যা মনোযোগ দিয়ে শুনে আশ্বাস দেন যে, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হবে এবং নাগরিক আবেদনের তালিকায় বেড়িবাঁধের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
উল্লেখ্য, গত বছর অক্টোবর থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো মানববন্ধন, জোয়ারের পানিতে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ ও আবেদনসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণেরদাবি জানিয়ে আসছে।