আমতলী প্রতিনিধিঃ তালতলী উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নের ফকিরহাট এলাকার ইদুপাড়া গ্রামে বাবার ছুরিকাঘাতে মাদকাশক্ত ছেলে মো. সফিক হাওলাদার (২৮) নামে এক যুবক নিহত হয়েছে। মাদকের টাকা না পেয়ে বাবাকে মারধর করার জের ধরে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ঘটনা ঘটেছে সোমবার দুপুরে তার বাড়িতে। নিহত সফিক হাওলাদার বাবা হারুন হাওলাদারের একমাত্র সন্তান। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। আগামীকাল মঙ্গলবার ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরন করা হবে বলে নিশ্চিত করেছেন ওসি মোঃ আসাদুর রহমান। স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, সফিক দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিল। তিন দফা রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারে চিকিৎসা করলেও তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেনি দাবী পরিবারের। মাদক সংক্রান্ত মামলায় একবার কারাভোগও করেছেন তিনি। এ বছর ৭ অক্টোবর মাদক মামলায় সফিক কারাগারে যান এবং ১০ ডিসেম্বর মুক্তি পেয়ে বাড়িতে ফেরেন। বাড়ি ফেরার পর থেকেই সফিক মাদকের টাকার জন্য বাবার ওপর চাপ সৃষ্টি করে আসছিল। সোমবার দুপুরে তিনি (সফিক) তার বাবা ঝালমুড়ি বিক্রেতা হারুন হাওলাদারের (৫০) কাছে আবারও মাদকের টাকা দাবি করেন। বাবা টাকা দিতে অস্বীকৃতি করলে ছেলে সফিক বাবাকে মারধর শুরু করে। একপর্যায় বাবা ক্ষিপ্ত হয়ে কাঁচা মরিচ কাটার ধারালো ছুরি দিয়ে বাবা হারুন হাওলাদার ছেলের পিঠে স্বজোরে আঘাত করেন বলে জানান স্থানীয়রা। এতে ঘটনাস্থলেই রক্তাক্ত অবস্থায় অচেতন হয়ে পড়ে সফিক। পরে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত বাবা হারুন হাওলাদার পালিয়ে যান। নিহতের মা রাশেদা বেগম বলেন, ‘ও আমাদের একমাত্র সন্তান। অনেকদিন ধরে নেশায় সব শেষ হয়ে গিয়েছে। তিনবার রিহ্যাবে চিকিৎসা করিয়েছি, কিন্তু ঠিক হয়নি। গত বুধবার জেল থেকে বের হয়ে বাড়ীতে আসে। বাড়ীতে এসেই আবারো মাদকের টাকার জন্য আমাকে এবং ওর বাবাকে মারধর শুরু করে। ওর হাত থেকে রক্ষায় ছুরিকাঘাত করেছে। তালতলী থানার ওসি আসাদুর রহমান বলেন, মাদকাসক্ত ছেলের মারধরের জেরে বাবা ছুরি দিয়ে আঘাত করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে এমনটাই জানা গেছে। বাবা পলাতক রয়েছে। তাকে ধরতে অভিযান চলছে। তিনি আরো বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। আগামীকাল (মঙ্গলবার) ময়না তদন্তের জন্য বরগুনা মর্গে পাঠানো হবে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ দেয়নি।