আপন নিউজ ডেস্কঃ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির উদ্যোগে কেন্দ্রীয় কমিটির ১২তম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত জেলে নেতৃবৃন্দ ও প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংযুক্ত শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন স্বপন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ইসরাইল পণ্ডিত।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মোঃ হেলাল উদ্দিনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
সভায় ভোলা থেকে আগত জেলে করিম মিয়া অবৈধ ট্রলিং জালের ভয়াবহ প্রভাব তুলে ধরে আবেগঘন বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, “রাক্ষসী অবৈধ ট্রলিং জাল সাগরের গুড়ি গুড়ি বড় বড় সব মাছ ধরিয়া ফালায়। মোরা সারাদিন জাল বাইয়াও ২০০ টাকার মাছ পাই না। ট্রলিং জালে সাগর আর নদীর মাছ সব শেষ কইরা ফেলছে। এইরম ধুঁইক্কা ধুঁইক্কা মরার চাইতে একসাথে বিষ খাইয়া মরাই ভালো।”
তিনি অবিলম্বে অবৈধ ট্রলিং জাল বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং ক্ষুদ্র জেলেদের জীবন-জীবিকা রক্ষায় সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
বক্তারা বলেন, অবৈধ ট্রলিং জালের কারণে উপকূলীয় অঞ্চলের ক্ষুদ্র মৎস্যজীবীরা চরম সংকটে পড়েছেন। সাগর ও নদীর মাছ নিঃশেষ হয়ে যাওয়ায় জেলেদের আয় কমে গেছে, অনেক পরিবার অনাহারের মুখে পড়ছে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতি জেলেদের অধিকার ও জীবন-জীবিকা রক্ষায় ১৯৮৫ সাল থেকে কাজ করে আসছে। সংগঠনটি ২০০২ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কাছ থেকে স্বর্ণপদকে ভূষিত হয়।
সভায় আগামী দুই বছরের জন্য নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়। এতে সভাপতি হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হন ইসরাইল হোসেন পণ্ডিত এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন বাবুল মীর।