আমতলী প্রতিনিধিঃ তালতলীতে গণভোটের পোস্টার দুর্বৃত্ত্বরা ছিঁড়ে ফেলেছে । পুনরায় পোষ্টার লাগাতে গেলে উপজেলা শ্রমিক দলের সদস্য সচিব সিদ্দিকুর রহমান মামুন ও তার লোকজন বাঁধা দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। জাতীয় নাগরিক পাটির (এনসিপি) বরগুনা জেলা সংগঠক মোঃ শাহাদাত হোসেন এমন অভিযোগ করেছেন। ঘটনা ঘটেছে মঙ্গলবার বেলা ১১ টার দিকে তালতলী শহরের মালিপাড়া এলাকায়।
জানাগেছে, মানুষকে গণভোটে সচেতন করতে গত রবিবার সন্ধ্যায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উদ্যোগে তালতলী উপজেলার মালীপাড়া স্লুইজগেটসহ বিভিন্ন এলাকায় পোস্টার লাগানো ও ব্যানার টানানো হয়। সোমবার রাতে ওই পোস্টারগুলো দৃর্বৃত্ত্বরা ছিড়ে ফেলেছে। মঙ্গলবার পুনরায় পোস্টার ও ব্যানার লাগাতে গেলে তালতলী উপজেলা শ্রমিক দলের সদস্য সচিব সিদ্দিকুর রহমান মামুন, সদর ইউনিয়ন ছাত্রদল কর্মী মো. ইমরান, সেচ্ছাসেবক দলের কর্মী সাইফুল, উপজেলা শ্রমিক দলের সদস্য আলআমীনসহ ১০-১৫ জন বাধা দেয় এবং এনসিপি নেতা শাহাদাত হোসেনকে গালাগাল করে। খবর পেয়ে তাৎক্ষনিক পুলিশ ঘটনাস্থল পরির্দশন করেছে। এমন ঘটনায় এলাকার ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সুষ্টি হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবী জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এদিকে গণভোটের ব্যানার ও পোস্টার টানানোতে বাঁধা দেয়ার একটি কথোপকথনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এতে দেখা যাচ্ছে এনসিপির নেতাকে পোস্টার ও ব্যানার টানাতে বাঁধা দেয়া হচ্ছে এবং একজনে ব্যানার গুছিয়ে দিচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বলেন, গণভোটের বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে পোস্টার লাগানো হয়েছে। ওই পোস্টার যারা ছিড়ে ফেলেছে তারা দেশের মঙ্গল চায় না। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এসে শাস্তির দাবী করছেন তারা।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বরগুনা জেলা সংগঠক এম. শাহাদাৎ হোসেন বলেন, গত রবিবার গণভোটের প্রচারের জন্য বিভিন্ন এলাকার পোস্টার ও মালিপাড়া স্লুইজগেট এলাকায় ব্যানার টানানো হয়। সোমবার রাতে ওই ব্যানার ও পোস্টার দুর্বৃত্ত্বরা ছিড়ে ফেলেছে। মঙ্গলাবার সকালে আবারো ব্যানার টানাতে গেলে উপজেলা শ্রমিক দলের সদস্য সচিব সিদ্দিকুর রহমান মামুন, সদর ইউনিয়ন ছাত্রদল কর্মী মো. ইমরান, সেচ্ছাসেবক দলের কর্মী সাইফুল, উপজেলা শ্রমিক দলের সদস্য আলআমীনসহ ১০-১৫ জন আমাকে বাঁধা দেয়। তাদের বাঁধার কারনে আমি ব্যানার টানাতে পারিনি। প্রশাসনকে বিষয়টি খতিয়ে দেখে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানান তিনি।
তালতলী উপজেলা শ্রমিকদলের সদস্য সচিব মোঃ সিদ্দিকুর রহমান মামুন বলেন, গণভোটের ব্যানার ও পোস্টার কে বা কারা ছিড়ে ফেলেছে তা আমি জানিনা? তিনি আরো বলেন, শাহাদাত পুনরায় ব্যানার টানাতে এসেছিল ওই সময় কথা কাটাকাটি হয়েছে। তবে তাকে ব্যানার টানাতে বাঁধা দেয়া হয়নি।
তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, বিষয়টি আমি জেনে তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তালতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদুল ইসলাম বলেন, বিয়য়টি জেনে তাৎক্ষনিক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে।