মেজবাহউদ্দিন মাননুঃ কলাপাড়ায় পশ্চিম মধুখালীসহ তিনটি গ্রামের চার শতাধিক কৃষক পরিবার চরম বিপাকে পড়েছেন। তাদের ব্যবহৃত জবান খাঁর খালে লোনা পানি প্রবেশের কারণে তাঁদের এখন চরম দূরাবস্থা হয়েছে। ব্যবহারের পানির চরম সংকট দেখা দিয়েছে। গবাদিপশুকে খাওয়ানোর পানি নেই। হাঁস পালন করতে পারছেন না। খালের লোনা পানি খেয়ে ইতোমধ্যে শতাধিক হাঁস মারা গেছে। গবাদিপশুকে খাওয়ানোর জন্য পুকুর থেকে পানি তুলে খাওয়াতে হচ্ছে। একটি প্রভাবশালী মহল রাতে আধারে চার ভেন্টের স্লুইসটির গেট খুলে দীর্ঘ প্রায় পাঁচ কিলোমিটার খালটিতে লোনা পানি ঢুকিয়ে দেওয়ায় এসব কৃষক পরিবারের চরম ভোগান্তি নেমে এসেছে। ৫-৬দিন আগে তাঁদের এমন সর্বনাশ করা হয়েছে। মানুষের দূর্ভোগের যেন শেষ নেই।
গ্রামের বাসীন্দা আবু ইউসুফ আকন জানান, খালে হঠাৎ করে ৫-৬দিন আগে লোনা পানি ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। তার হাঁসে ওই পানি খাওয়ায় ২২টি হাঁস মারা গেছে। খালের পানিতে মরা হাঁস ভাসতে দেখা গেছে। গরুবাছুরে ওই পানি খেতে পারছে না। মজনু হাওলাদার জানালেন, প্রতিদিন সকালে, দুপুরে ও সন্ধ্যায় গরুর জন্য পুকুরের পানি বালতিতে করে বিলে নিয়ে খাওয়াতে হয়। কষ্টের যেন শেষ নেই। একটি প্রভাবশালী মহল স্লুইসগেট খুলে তাঁদের এমন ক্ষতি করেছে বলে সকল মানুষের অভিযোগ।
ওই এলাকার ইউপি সদস্য (মেম্বার) মো. কাওসার গাজী জানান, এই খালটি দিয়ে মিঠাগঞ্জের চারটি ওয়ার্ডের কৃষকের কৃষিকাজের পানির সংকুলান হয়। এমনিতেই খালটি ভরাট হয়ে গেছে। তারউপওে কয়েকদিন আগে মাছ ধরার লোভে একটা স্বার্থান্বেষী মহল স্লুইসগেট খুলে লোনা পানি ঢুকিয়ে দিয়েছে। এখন কৃষকের দূর্ভোগের শেষ নেই। গরুবাছুর নিয়ে সমস্যার মধ্যে পড়েছে।
মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মেজবাহ উদ্দিন খান দুলাল জানান, লোনা পানির প্রবেশ ঠেকাতে স্লুইসের সামনে অস্থায়ী বাঁধ দেওয়ার দরকার ছিল। তারপরও রাতের বেলা একটি কুচক্রীমহল স্লুইসগেট খুলে দেওয়ায় লোনা পানি খালের ভিতরে প্রবেশ করেছে।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাউছার হামিদ জানান, তিনি বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ইউপি চেয়ারম্যানকে নির্দেশনা দিবেন।