কলাপাড়া প্রতিনিধিঃ কলাপাড়া উপজেলার মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের গোলবুনিয়া এলাকার প্রাক্তন সহকারী শিক্ষক মোঃ আলমগীর হোসেন মোল্লা জমি সংক্রান্ত একটি মামলা দায়ের করার পর থেকে নানা হুমকি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মামলার ২ নম্বর আসামি মোঃ লোকমান বর্তমানে জেল হাজতে থাকায় অপর আসামিরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
বাদীর অভিযোগ, আসামি ফোরকান হাওলাদার, তার ছোট ভাই নিজাম হাওলাদার ও মামা নান্নু হাওলাদার জোরপূর্বক জমির সীমানার বেড়া কেটে নিয়ে যায় এবং রাতের বেলায় হামলার চেষ্টা করে। এতে তিনি ও তার পরিবার চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলে জানান।
মামলার আসামিরা হলেন- আবুল হাসেম (৭০), মোঃ লোকমান (৪৫), মোঃ ফোরকান হাওলাদার (৪০), নিজাম হাওলাদার (৩৫), জালাল হাওলাদার (৭২), নান্নু হাওলাদার (৬৮), মোঃ ইয়াসিন (২৫) ও মোঃ আল আমিন (২৩)।
মামলার বিবরণে জানা যায়, তিনি বিভিন্ন সময়ে খেপুপাড়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নিবন্ধিত একাধিক দলিলের মাধ্যমে মোট প্রায় ১.৯৬ একর জমি ক্রয় করে দীর্ঘদিন ধরে বসতবাড়ি, বাগান, পুকুর তৈরি করে বসবাস ও চাষাবাদ করে আসছেন।
বর্তমান বিএস জরিপে জে এল নং-৩২, মিঠাগঞ্জ মৌজার বি এস ৫৮০ নং খতিয়ানে প্রায় ১.৮০ একর জমির রেকর্ডও তার নামে রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বাদীর অভিযোগ, আসামিরা সংঘবদ্ধ ভূমিদস্যু ও চাঁদাবাজ চক্রের সদস্য। তারা তার মালিকানাধীন এসএ ১৫৬ ও ২৪৫ নং খতিয়ানের জমির মধ্যে বিএস ৪২০৭, ৪২১৩ ও ৪২১৪ নং দাগের মোট ৩৭ শতাংশ জমি জোরপূর্বক দখল করে নেয়। এ সময় জমির উপরিভাগের মাটি কেটে জমির আকার-আকৃতি পরিবর্তন করে নিজেদের বাড়ির সাথে মিশিয়ে নেয় এবং এতে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন বাদী।
ঘটনার সময় তিনি ও সাক্ষীরা বাধা দিলে আসামিরা খুন-জখমের ভয়ভীতি দেখিয়ে জমিটি নিজেদের বলে এলাকায় প্রচার করতে থাকে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এ ঘটনায় তিনি ভূমি সংশ্লিষ্ট অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন ২০২৩ এর ৪(১)(ক), ৭, ১০, ১৩ ও ১৬ ধারায় আদালতে মামলা দায়ের করেছেন এবং আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন জানিয়েছেন। বর্তমানে আদালত কর্তৃক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি রয়েছে।
অন্যদিকে অভিযুক্তদের মধ্যে মোঃ ফোরকান হাওলাদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হচ্ছে। আমরা বৈধভাবে জমি বিএস করেছি। এর প্রতিবাদ করায় আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।”