গরুর ভেক্সিনে অতিরিক্ত টাকা আদায় কলাপাড়া পশু হাসপাতালের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ
কলাপাড়া প্রতিনিধি: গরুর বাদলা রোগের ১ টি ভেক্সিনের সরকারি মূল্য ৪০ টাকা। যা ২০ টি গরুকে প্রয়োগ করা যায়। এতে গরু প্রতি ভেক্সিনের মূল্য ২ টাকা। অথচ খামারিদের কাছ থেকে একটি গরুর ভেক্সিনের মূল্য নেয়া হয় ১০০ টাকা। ভেক্সিন শেষে করণীয় সম্পর্কে দেয়া হয় না পরামর্শ। ভূল চিকিৎসায় খামারির গরু মরলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যেনো উদাসীন। এছাড়া হাসপাতালের ঔষধ বিতরনেও রয়েছে অনিয়মের অভিযোগ। পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা প্রাণীসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে চিকিৎসা সেবাসহ ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। পশু হাসপাতালের ভি.এফ.এ আলী আহসানের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ থাকলেও অজানা কারনে একই স্থানে কর্মরত রয়েছেন দীর্ঘ বছর। একাধিকবার তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও কার্যত কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। লিখিত অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেয়াই কর্তৃপক্ষের দায়সাড়া জবাব।
ধুলাসার ইউনিয়নের ভূক্তভোগী খামারি ফেরদাউস অভিযোগ করে জানান, তার খামারে ছোট-বড় ১০ টি গরু রয়েছে। কিছুদিন আগে একটি গরুর অসুস্থ হলে পশু হাসপাতাল থেকে ভিএফও আলী আহসান এসে কলাগাছিয়া (বাদলা) রোগের ভেক্সিন করেন। ভেক্সিন করার ৫ থেকে ৬ দিন পরে তার একটি গরু মারা যায়। অথচ পরবর্তীতে ওই চিকিৎসক আর কোন খোঁজ খবর নেয়নি। তার গরুসহ পাশ্ববর্তী মোট ৩৬ টি গরুকে ওই সময়ে ভেক্সিন দেয়া হয়। প্রতিটি ভেক্সিনের জন্য ১০০ টাকা করে মোট ৩৬০০ টাকা নেন চিকিৎসক আলী আহসান। এভাবে আরো অনেক খামারির কাছ থেকে টাকা আদায় করেছেন তিনি।
গরু খামারি ফেরদাউস আরও বলেন, তিনিসহ আরো অনেকেই গরুর খামার দেয়ার জন্য আগ্রহী। তবে, তাদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণসহ পশু হাসপাতাল থেকে নিয়মিত পরামর্শ দিলে অর্থনৈতিকভাবে অনেকেই স্বাবলম্বী হবে বলে তিনি অভিমত করেন।
ওই ইউনিয়নের অপর এক খামারি নূর সায়েদ ব্যাপারী বলেন, তার খামারে মোট ৪টি গরু রয়েছে। ডাক্তার আলী আহসান ভেক্সিন দেয়ার পরে তার গরুর শিনায় বড় বড় গোত উঠেছে। এবিষয়ে তাদের অবহিত কিংবা সতর্ক করা হয়নি। পশু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সকল গরু খামারিদের গরুর রোগ নির্ণয়, পরিচর্চা এবং পরামর্শসহ বিভিন্ন বিষয়ে সহায়তা করবেন এমনটাই প্রত্যাশা এই খামারিসহ আরো অনেকের।
এবিষয়ে অভিযুক্ত কলাপাড়া ভেটেরিনারি হাসপাতালের ভি.এফ.ও আলী আহসানকে সংবাদকর্মী পরিচয়ে তার মুঠো ফোনে জানতে চাইলে তিনি উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। তিনি এসকল বিষয়ের সাথে জড়িত নন এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে বক্তব্য নেয়ার জন্য সংবাদ কর্মীদের সাথে উচ্চ বাক্য করেন। তিনি সকাল-বিকেল অনেক সাংবাদিক দেখেছেন বলেও হুশিয়ারি করেন।
কলাপাড়া উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা: মারুফ বিল্লাহ খান বলেন, এসকল বিষয়ে তিনি অবগত নন। তবে, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন বলে তিনি সাংবাদিকদের জানান।
এবিষয়ে পটুয়াখালী জেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা: মো. হাবিবুর রহমান বলেন, গরুর ভেক্সিনের মূল্য বেশি নেয়া গুরুত্বর অনিয়ম। এসকল অনিয়মের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি সাংবাদিকদের জানান।