হাসপাতালে দালাল-সিন্ডিকেট চক্রকে প্রতিমন্ত্রী নুরের হুঁশিয়ারি
সঞ্জিব দাস, গলাচিপাঃ প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী এবং পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নবনিযুক্ত সভাপতি নুরুল হক নুর জানিয়েছেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান খাতে সফলতা অর্জন করতে পারলে অনেক দূর এগিয়ে যাবে দেশ। সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার দ্রুত ই-হেলথ কার্ড চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে। পাশাপাশি কারিগরি প্রশিক্ষণ ও প্রবাসীদের সুবিধার্থে নেওয়া হয়েছে নানা পদক্ষেপ, যা দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বেকারত্ব কমাতে সহায়ক হবে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রথমবার পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান তিনি।
নুরুল হক নুরের ভাষ্য, বিভাগীয় পর্যায় থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়ন, প্রয়োজনীয় জনবল বৃদ্ধি এবং আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কাজ করছে সরকার। তবে দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক সংকট এখনো বড় সমস্যা।
তার ভাষ্য, জেলা ও উপজেলা হাসপাতালের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ চিকিৎসকের পদ কার্যত শূন্য। উপজেলা পর্যায়ে পরিস্থিতি আরও খারাপ।
পটুয়াখালী হাসপাতালের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে তিনি জানিয়েছেন, ২৫০ শয্যার হাসপাতাল হলেও প্রতিদিন সেখানে ৮০০ থেকে ৯০০ রোগী ভর্তি থাকেন। অতিরিক্ত রোগীর চাপে অনেককে করিডোর ও মেঝেতে থাকতে হয়। এ অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ কমাতে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজের জন্য পূর্ণাঙ্গ ৫০০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
হাসপাতালের ভেতরে বা বাইরে কোনো দালালচক্র কিংবা সিন্ডিকেটের অস্তিত্ব পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি।
পরিদর্শনের সময় নুরুল হক নুর রোগীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সমস্যার কথা শোনেন। পরে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ পরিদর্শন করে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি জানালেন, সরকারি মেডিকেল কলেজে কম খরচে চিকিৎসাশিক্ষার সুযোগ পাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। অথচ বেসরকারি মেডিকেল কলেজে পড়তে ৪০ থেকে ৭০ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় হয়। এই অর্থ জনগণের ভ্যাট-ট্যাক্সের টাকায় বহন করছে রাষ্ট্র। তাই চিকিৎসক হয়ে জনগণের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে এবং সেবা দিতে হবে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে।
পরে ২৫০ শয্যার হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন নুরুল হক নুর।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা. খালেদুর রহমান মিয়া, পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আতিকুর রহমান, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক দিলরুবা ইয়াসমিন লিজা (রুপা), পুলিশ সুপার মো. আবু ইউসুফ, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব জুয়েল রানা এবং প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতারা।