কলাপাড়ায় জেলে চাল বিতরনে হরিলুট, বসত ঘর ও ঝোপঝাড় থেকে চোরাই চাল উদ্ধার
রিপোর্ট-ইমন আল আহসানঃ কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নে জেলেদের চাল বিতরনে হরিলুট, প্রশাসনের অভিযানের পর চাল বেড় হচ্ছে বসত ঘর ও ঝোপঝাড় থেকে। শনিবার (১৬ মে) বেলা ১১ টার দিকে দৌলতপুর গ্রামের একাধিক বাড়ি থেকে জেলেদের বরাদ্ধকৃত সরকারি ৩০০ কেজি চাল কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে উদ্ধার করেন স্থানীয় মেম্বর ও গ্রাম পুলিশ।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শুক্রবার গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে এক যুবকের ঘর থেকে ২৪ বস্তা চাল জব্দ করার পর গোটা ইউনিয়নে বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় একে অপরের কানাকানিতে কোথায় কোথায় চাল আছে বিষয়টি এক পর্যায়ে বেরিয়ে আসে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউসার হামিদ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার সকালে ঐ এলাকায় অভিযান চালানোর পর দুষ্কৃতিকারীরা কৌশলে সরে যান। পরে চোলাইকৃত চাল উদ্ধারে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশদের নির্দেশ প্রদান করেন। তারই ধারাবাহিকতায় দুইটি ঘরে তল্লাশি চালিয়ে মোসাঃ নাজমা বেগম এর বাসা থেকে ২১০ কেজি ও জাকির হোসেন এর বাসা থেকে ৯০ কেজি চাল উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়াও ইদ্রিস প্যাদা সহ তিন বাসায় জেলেদের বরাদ্দকৃত চোরাই চাল একাধিক বস্তা কেটে প্লাস্টিকের ড্রাম ও মাটির মটকা ভর্তি করে রাখা সেই চাল সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি তাই উদ্ধার করাও হয়নি।
স্থানীয়রা অভিযোগ আকারে বলেন, চাল বিতরনের সময় স্থানীয় মেম্বর ও গ্রামপুলিশ সহ একটি চোরাই চক্র নামে বেনামে টোকেন দিয়ে কৌশলে এই চাল চুরি করে আসছে বীরদর্পে। এদের কারনে প্রকৃত সামুদ্রিক জেলেরা সরকারি বরাদ্দকৃত সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এদের লাগাম টেনে ধরা দুষ্কর। তাই প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে চাল চোর চক্রের সাথে যারা জড়িত তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউছার হামিদ বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঐ এলাকায় গিয়েছিলাম তখন এলাকার লোকজন স্বীকার করেনি, পরে স্থানীয় মেম্বর ও গ্রাম পুলিশদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এলাকাবাসীর সহায়তায় তারা কিছু চাল জব্দ করেছে যাচাই-বাছাই করে চাল চুরির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।