আমতলীতে নারী নেত্রী ও তার দোসরদের গ্রেপ্তার দাবীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ
আমতলী প্রতিনিধিঃ আমতলী উপজেলা মহিলা বিএনপির স্বঘোষিত নারী নেত্রী মাহমুদা আক্তার হেপী ও চাওড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মোঃ জুয়েল হাওলাদারের গ্রেপ্তার দাবীতে এলাকাবাসী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে। রবিবার বিকেলে তালুকদার বাজারে এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করা হয়। মানবন্ধনে চাওড়া ইউনিয়নের সহস্রাধীক নারী ও পুরুষ অংশ নেয়। তারা পুলিশ প্রশাসনের কাছে দ্রুত তাকে গ্রেপ্তারের দাবী জানিয়েছেন।
জানাগেছে, আমতলী উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নের পাতাকাটা গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য আলতাফ হাওলাদারের কন্যা মাহমুদা আক্তার হেপি। শেখ হাসিনার পতনের পরপরই তিনি উপজেলা মহিলা বিএনপির স্বঘোষিত নারী নেত্রী বনে যান। এরপর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব তার চাচা মোঃ জুয়েল হাওলাদারের নেতৃত্বে একটি বাহিনী গড়ে তোলেন তিনি।ওই বাহিনী এলাকায় জমি দখল,শালিস বানিজ্য ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম শুরু করেন। তাদের অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলেই তিনি এলাকার মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা জড়িয়ে হয়রানী করেন। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে হেপীর নেতৃত্বে দেলোয়ার হাওলাদারের জমি দখল করতে যান জুয়েল ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী। এতে বাধা দিলে তারা দেলেয়ার হাওলাদার, কোমেলা বিধি ও সোহেল হাওলাদারকে পিটিয়ে জখম করে। তারা আমতলী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে তাদেরকে দ্বিতীয় দফায় মারধর করে এবং হাসপাতালে ভর্তি হতে দেয়নি নারী নেত্রী হেপি আক্তার এমন অভিযোগ দেলোয়ার হাওলাদারের। পরে তারা পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি। এ ঘটনায় দেলোয়ারের বোন রিনা বেগম বাদী হয়ে শুক্রবার দুপুরে জুয়েল হাওলাদার ও নারী নেত্রী হেপি আক্তারসহ ১৫ জনকে আসামী করে হত্যা চেষ্টা ও জমি জখল আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের খবর পেয়ে ওইদিন বিকেলে হেপীর নেতৃত্বে জুয়েল হাওলাদারের সন্ত্রাসী বাহিনী দেলোয়ার হাওলাদারের বাড়ীতে হামলা ও লুটপাট করেছে। এভাবে একাধিক ঘটনা ঘটিয়েছে তারা এমন অভিযোগ এলাকাবাসীর। তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে রবিবার বিকেলে চাওড়া ইউনিয়নের পাতাকাটা এলাকাবাসী তাদের গ্রেপ্তার দাবীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে। আবু হানিফ মিয়ার সভাপতিত্বে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন চাঁন মিয়া মল্লিক, সজিব মল্লিক, শিউলী আক্তার ও শাহনাজ পারভীন প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, স্বঘোষিত নারী নেত্রী মাহমুদা আক্তার হেপী ছিলেন আওয়ামীলীগের দোসর। শেখ হাসিনার পতনের পর তিনি ভোল পাল্টে রাতারাতি বিএনপি নেত্রী হয়ে যান। তিনি তার চাচা জুয়েল হাওলাদারকে দিয়ে একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তোলেন। চাচা ও ভাতিজি মিলে এলাকায় জমি দখল, শালিস বানিজ্য, সুদের কারবার ও মিথ্যা মামলা দিয়ে মানুষকে হয়রানীসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন। তাদের এমন অপকর্মের বিরুদ্ধে যারা প্রতিবাদ করে তাদের ওপর নেমে আসে নির্যাতন ও মিথ্যা মামলার খড়গ। দ্রুত তাদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবী এলাকাবাসীর।
আমতলী উপজেলা মহিলা বিএনপির সভানেত্রী মীরা খাঁন বলেন, মাহমুদা আক্তার হেপী মহিলা বিএনপির কেউ না। তিনি আওয়ামীলীগের দোসর ছিলেন। শেখ হাসিনার পতনের পর রাতারাতি মহিলা বিএনপির নেত্রী দাবী করেন থানায় দালালী, জমি দখল ও শালিস বানিজ্যসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পরেছেন। তার অপকর্মের দায়ভার দল নিবে না।
আমতলী উপজেলা মহিলা বিএনপির স্বঘোষিত নারী নেত্রী মাহমুদা আক্তার হেপির মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়েই ফোনের সংযোগ বিছিন্ন এবং ফোন বন্ধ করে দেন।
আমতলী থানায় ওসি মোঃ ইয়াকুব হোসাইন বলেন, একটি ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তিনজন আসামী গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর আসামীদের দ্রুত সময়ের মধ্যেই গ্রেপ্তার করা হবে।