রাঙ্গাবালীতে বহু-অংশীজনীয় মৎস্যজীবী প্লাটফর্মের সভা অনুষ্ঠিত
এস এম জুয়েল রানাঃ পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় মৎস্যজীবীদের অধিকার, জীবিকা উন্নয়ন ও সামুদ্রিক সম্পদ সংরক্ষণে বহু-অংশীজনীয় (মাল্টি-স্টেকহোল্ডার) মৎস্যজীবী প্লাটফর্মের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২০ জুলাই) সকাল ১১টায় উপজেলা প্রশাসনের সভাকক্ষে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা উত্তরণ-এর উদ্যোগে এবং ফিশনেট প্রকল্পের আওতায় এ সভার আয়োজন করা হয়। প্রকল্পটি ওশান গ্রান্টস প্রোগ্রাম ও ইউকে ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট-এর আর্থিক সহযোগিতায় বাস্তবায়িত হচ্ছে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন রাঙ্গাবালী উপজেলার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খায়রুল হাসান। এতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক এবং মৎস্যজীবী নেটওয়ার্কের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা অজিত দেবনাথ, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার অনাদি কুমার বাহাদুর, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার প্রতিনিধি মো. নেছার উদ্দীন, ছোট বাইশদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. কামাল পাশা, রাঙ্গাবালী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. মন্নান গাজী, সাংবাদিক ও উপজেলা পানি কমিটির সদস্য মো. পারভেজ হাওলাদার, উপজেলা ভূমি কমিটির সভাপতি মো. আবুল বাশার হাওলাদার, মৎস্যজীবী নেটওয়ার্কের সভাপতি তালাশ মাহমুদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।
সভায় ফিশনেট প্রকল্পের টেকনিক্যাল অফিসার মো. শাহজাহান আলী প্রকল্পের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য এবং এ পর্যন্ত বাস্তবায়িত কার্যক্রম তুলে ধরেন। তিনি রাঙ্গাবালীর খাল গোড়া খালকে মৎস্য অভয়াশ্রম ঘোষণা, ভূমিহীন জেলেদের মধ্যে খাসজমি বরাদ্দ, সরকারি জলমহাল মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির কাছে ইজারা প্রদান, জলাবদ্ধতা নিরসনে খালের মুখের বাঁধ অপসারণ এবং প্রান্তিক জেলেদের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
সভাপতির বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত ইউএনও খায়রুল হাসান ফিশনেট প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ও মাছের প্রজাতি সংরক্ষণে খুব শিগগিরই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি মৎস্য অধিদপ্তরকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা ও তার প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
তিনি আরও জানান, ভূমিহীনদের মধ্যে দ্রুত খাসজমি বরাদ্দের উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং প্রকৃত জেলেরা যাতে নতুন জেলে কার্ড পান, সে লক্ষ্যে দ্রুত তালিকা প্রস্তুতের জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সরকারের সেফটিনেট কর্মসূচির সুবিধা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দিতে সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
সভায় একাডেমিক সুপারভাইজার অনাদি কুমার বাহাদুর অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রমে বিদ্যালয় থেকে তথ্য যাচাই করে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের তালিকা প্রস্তুতের পরামর্শ দেন এবং এ কার্যক্রমে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
উপজেলা ভূমি কমিটির সভাপতি মো. আবুল বাশার হাওলাদার ভূমিহীন ও অসহায় মানুষের মধ্যে সরকারি খাসজমি বরাদ্দের দাবি জানান। অপরদিকে মৎস্যজীবী নেটওয়ার্কের সভাপতি তালাশ মাহমুদ প্রান্তিক জেলে পরিবারের সদস্যদের সরকারি সেফটিনেট কর্মসূচির আওতায় আনার আহ্বান জানান।
সভাটি সঞ্চালনা করেন উত্তরণ-ফিশনেট প্রকল্পের রাঙ্গাবালী উপজেলা এরিয়া ম্যানেজার এস কে রুশায়েদ উল্লাহ।