আমতলীতে উদয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৭ ছাত্রী আখরোট ফল খেয়ে অসুস্থ
আমতলী প্রতিনিধিঃ আমতলী উদয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেনীর ছাত্র আবির হোসেনের আনা আখরোট ফল খেয়ে তার ৭ সহপাঠী অসুস্থ হয়ে হয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকরা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। ওই হাসপাতালের চিকিৎসক তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে প্রেরন করেছে। ঘটনা ঘটেছে বুধবার রাত পৌনে ৮ টার দিকে।
জানাগেছে, আমতলী উদয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শতাধিক শিক্ষার্থী রাতে বিদ্যালয়ে কোচিং করতে আসে। বুধবার সন্ধ্যায় ওই বিদ্যালয়ে যথারীতি কোচিং চলছিল। রাত সাড়ে সাতটার দিকে সপ্তম শ্রেণীর আবির নামের এক ছাত্র প্রবাসী বাবার আনা আখরোট ফল নিয়ে আসে। ওই ফল সহপাঠীদের বিতরন করেন। সহপাঠি তানিয়া, উর্মী, মিম, এলমা, মরিয়ম, ফাতেমা ও সামিয়া ওই ফল খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। এ সময় বিদ্যালয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পরে। সকল ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে দৌড়ঝাপ শুরু হয়। মুহুর্তের মধ্যে বিদ্যালয় ফাঁকা হয়ে যায়। পরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকরা তাদের উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। ওই হাসপাতালের চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে প্রেরন করেছেন। ওইদিন রাত পৌনে ১০ টার দিকে স্বজনরা তাদের উন্নত চিতকৎসার জন্য নিয়ে গেছেন।
অভিভাবক মিলন ফকির, জসিম বয়াতি ও আবুল হোসেন বলেন, খবর পেয়ে আমরা বিদ্যালয়ে এসে দেখি মেয়েরা বমি করছে এবং স্বাস কষ্টে ভুগছেন। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসি। কি কারনে এমন ঘটনা ঘটেছে তা আমরা বলতে পারি না?
ছাত্রী সামিরা ও মরিয়ম বলেন, আমরা দুজনে আবিরের আনা আখরোট ফল খাইনি। ওরা পাচজনে খেয়ে অসুস্থ্য হয়ে পরে। ওদের সাথে সাথে আমরাও অসুস্থ্য হয়ে যাই।
আমতলী উদয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ সোলাইমান হোসেন বলেন, সপ্তম শ্রেনীর ১০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে সাতজন অসুস্থ্য হয়ে পরলে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাই। কিন্তু কেন তারা অসুস্থ্য হয়েছে তা আমার জানা নেই।
আমতলী থানার ওসি মোঃ ইয়াকুব হোসাইন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা জন্য সহয়তা করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, আবির নামের এক শিক্ষার্থী সহপাঠিদের প্রবাসী বাবার আনা আখরোট ফল খাইয়েছে। ওই ফল খেলে ছাত্রীরা অসুস্থ্য হয়ে পরেছে। তবে মরিয়ম ও সামিয়া নামের দুই শিক্ষার্থী ফল না খেয়েও অসুস্থ্য হয়েছে। ছাত্র আবিরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রকৃত কারন উদঘাটন করা হবে।
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাঃশুভেন্দু বায় বলেন, শিক্ষার্থীদের যথাযথ চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরো বলেন, সঠিক কি খেয়ে অসুস্থ্য হয়ে পরেছে তা বলা মুসকিল। শিক্ষার্থীরা স্বাস কষ্ট, অস্থিরতা ও বমি করছিল।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসান মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান বলেন, বিষয়টি জেনেছি। তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।