তালতলীতে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম; তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস উপ-পরিচালকের
আমতলী প্রতিনিধিঃ তালতলী উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের সার ডিলার নিয়োগ ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ আবু জাফার গুদাম যাচাই বাছাই না করেই সুপারিশ করেছেন এমন অভিযোগ করেছেন সার ডিলার নিয়োগ যাচাই কমিটির সদস্য মোঃ মাহবুবুল আলম মামুন। অপর দিকে পঁচাকোড়ালিয়া ইউনিয়নের গুদাম ঘর চুক্তিনামা জালিয়াতি করে রকিবুল ইসলাম সার ডিলার নিয়োগ নিয়েছেন এমন অভিযোগ করেছের মিলন, ইব্রাহিম ও মাসুদ রানা। সোমবার তারা এ নিয়োগ বাতিল চেয়ে বরগুনা জেলা প্রশাসক ও জেলা সভাপতি সার-বীজ মনিটরিং কমিটির কাছে অভিযোগ দিয়েছেন। বরগুনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এসএম মোঃ বদরুল আলম অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
জানাগেছে, তালতলী উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের সার ডিলার নিয়োগের জন্য বরগুনা জেলা প্রশাসক গত ১৩ আগষ্ট বিজ্ঞপ্তি দেন। বিজ্ঞপ্তি মোতাবেক সাতটি ইউনিয়নে ৭০ জন আবেদন করেছেন। যাচাই বাছাই কমিটির সদস্য মোঃ মাহবুবুল আলম মামুন অভিযোগ করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার অতীশ সরকার ও উপজেলা কৃষি অফিসার আবু জাফর তার মতামত না নিয়েই তাদের ইচ্ছে মাফিক তালিকা জেলায় প্রেরন করেছেন। এছাড়াও মিলন, মাসুদ রানা ও ইব্রাহিম অভিযোগ করেছেন পঁচাকোড়ালিয়া ইউনিয়নের নিয়োগ পাওয়া সার ডিলার মোঃ রকিবুল ইসলাম জাল-জালিয়াতি করে গুদামের চুক্তি দেখিয়েছেন। ওই চুক্তিতে ঘর মালিকের স্বাক্ষর জাল। গুদাম মালিক স্বপন চন্দ্র শীল অভিযোগ করেছেন তিনি রকিবুল ইসলাম নামের কাউকে তার ঘর সারের গুদাম ব্যবহারে চুক্তি করেনি। তার স্বাক্ষর জাল করে রকিবুল ইসলাম চুক্তিনামা তৈরি করেছেন। সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের বিষয়ে সোমবার মিথিলা এন্টারপ্রাইজের মালিক মিলন, মৃধা এন্টারপ্রাইজের মালিক মাসুদ রানা ও আব্দুল্লাহ এন্টারপ্রাইজের মালিক ইব্রাহিম বরগুনা জেলা প্রশাসক ও সার বীজ মনিটরিং কমিটির কাছে অভিযোগ দিয়েছেন।
ডিলার নিয়োগে আবেদনকারী মোঃ মিলন, মাসুদ রানা ও ইব্রাহিম বলেন, পচাঁকোড়ালিয়া ইউনিয়নে রকিবুল ইসলাম জাল জালিয়াতি করে সার গুদামের চুক্তিনামা তৈরি করে আবেদন করেছেন। যা সম্পুন্ন অবৈধ। মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে একটি চক্র অবৈধভাবে সিকদার এন্টারপ্রাইজের মালিক রকিবুল ইসলামকে সার ডিলার নিয়োগ দিয়েছেন। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবী তাদের।
ঘর মালিক স্বপন চন্দ্র শীল বলেন, আমি রকিবুল ইসলাম নামের কারো কাছে সারের গুদাম তৈরিতে ঘরের চুক্তিনামা করিনি। আমার স্বাক্ষর জাল করে চুক্তিনামা তৈরি করেছেন। যিনি এমন কাজ করেছেন তার শাস্তি দাবী করছি।
সিকদার এন্টারপ্রাইজের মালিক মোঃ রকিবুল ইসলাম বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ মিথ্যা। আমি সঠিকভাবেই আবেদন করে ডিলার নিয়োগ পেয়েছি।
তালতলী সার ডিলার বাছাই কমিটির সদস্য মোঃ মাহবুবুল আলম মামুন বলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও কৃষি অফিসার আমার মতামত না নিয়েই তাদের ইচ্ছে মাফিক তালিকা জেলায় পাঠিয়েছেন। কাদের নাম পাঠিয়েছেন তা আমার জানা নেই।
তালতলী উপজেলা কৃষি অফিসার ও সার ডিলার যাছাই কমিটির সদস্য সচিব মোঃ আবু জাফার বলেন, যারা ডিলারশীপ পেতে আবেদন করেছেন, সকল তালিকা জেলায় পাঠিয়েছি। কিন্তু তারা কি করেছেন তা আমার জানা নেই? তিনি আরো বলেন, সিকদার এন্টার প্রাইজের গুদাম চুক্তিনামার বিষয়ে আমি অবগত নেই।
তালতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সার ডিলার বাছাই কমিটির সভাপতি অতীশ সরকার বলেন, উপজেলা কৃষি অফিসার ও তার টিম সার ডিলারের আবেদনকারীদের তথ্য যাচাই বাছাই করেছেন। তার মতামতের ভিত্তিতে তালিকা জেলায় পাঠিয়েছি।
বরগুনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এসএম মোঃ বদরুল আলম বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে সত্যতা প্রমানিত হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।