পায়রা নদীর ব্লক নির্মাণে লবণাক্ত বালু, ঝুঁকিতে শত কোটি টাকার উন্নয়ন
আমতলী প্রতিনিধিঃ আমতলীর পায়রা নদীর এক হাজার ২০০ মিটার ব্লক নির্মাণে লবণ পানির বালু ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই বালুতে প্রয়োজনীয় এফএম নেই। বুধবার এ বালু দিয়ে ব্লক নির্মাণ কাজ শুরু করেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। ফলে অল্প দিনের মধ্যেই ব্লক নষ্ট হয়ে ক্ষয়ে যাবে। এতে সরকারের শত কোটি টাকা উন্নয়ন ভেস্তে যাবে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। দ্রুত তদন্ত করে ওই বালু দিয়ে ব্লক নির্মাণ বন্ধের দাবী জানিয়েছেন তারা। জানাগেছে, ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ড পায়রা নদীর ভয়াবহ ভাঙ্গণ রোধে ব্লক নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। চাওড়া ইউনিয়নের বৈঠাকাটা ৪৩/১ এবং আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের পশুরবুনিয়া ৪৪/ বি পোল্ডারে ৪৫০০ মিটার ব্লক নির্মাণে ১৩ টি প্যাকেজে কাজ পায় বিভিন্ন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। গত দুই বছরে বেশ কয়েকটি প্যাকেজের কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে ৪৩/১ নং পোল্ডারে ৩ ও ৪ নম্বর প্যাকেজ ৬০০ মিটার এবং ৪৪/বি পোল্ডারে ১৪ ও ১৫ নম্বর প্যাকেজে ৬০০ মিটার ব্লক নির্মাণ কাজ চলছে। ন্যাশনে টেক নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ওই চার প্যাকেজের এক হাজার ২০০ মিটার ব্লক নির্মাণের কাজ পায়। দরপত্রে উল্লেখ আছে ব্লক নির্মাণে সিলেকশন বালু ব্যবহার করতে হবে এবং যার এফ মান মান হবে ২.০০এর উপরে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে ওই চার প্যাকেটের ব্লক নির্মাণ করতে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ন্যাশন টেক চট্টগ্রাম থেকে লবণ পানির বালু এনে স্তুপ করে রেখেছেন। বুধবার ন্যাশন টেক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজন ওই বালু দিয়ে ব্লক নির্মাণ কাজ শুরু করেছেন। বিষয়টি বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষকে জানালেও তারা অজ্ঞাত কারনে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। দ্রুত তদন্ত করে ওই বালু পরিবর্তন করে সিলেকসন বালু দিয়ে ব্লক নির্মাণের দাবী স্থানীয়দের। স্থানীয় রহমান মিয়া, হাতেম ও খায়রুল ইসলাম বলেন, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রামের লবণ পানির বালু এনে স্তুপ করে রেখেছেন। ওই বালু দিয়ে বুধবার কাজ শুরু করেছেন। তারা আরো বলেন, স্তুপ করা বালুর নীচে জমে থাকা পানি মুখে দিলেই বুঝতে পারবে বালু কোথার? এ বালু দিয়ে ব্লক নির্মাণ করলে সেকসই হবে না। অল্প দিনের মধ্যেই ব্লক ক্ষয় হয়ে নষ্ট হয়ে যাবে। এতে সরকারের মুল উদ্দেশ্যে ব্যহত হবে। তারা আরো বলেন, লবণ পানির বালুর বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করেছি কিন্তু তার কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার দাবী তাদের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক ওয়ার্ক এ্যাসিষ্টেন্ট বলেন, পায়রা নদীর ব্লক নির্মাণে ন্যাশন টেক নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান যে বালু এতে স্তুপ করে রেখেছেন ওই বালুতে প্রয়োজনীয় এফএম মান নেই। ওই বালু দিয়ে ব্লক নির্মাণ করলে বেশী দিন টিকবে না। ন্যাশন টেকের সিভিল ইঞ্জিনিয়ার আবুল খায়ের বলেন, বালুর এফএম মান চেক করে ফিল্ডে নামিয়ে স্তুপ করে রেখেছি। এ বালু দিয়ে ব্লক নির্মাণ করে বুয়েট টেষ্ট করা হবে। টেষ্টে না টিকলে ব্লক বাতিল করে দেয়া হবে।
বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ আজিজুল হক সুজন বলেন, কিছু স্তুপ বালুতে এফএম মান কম থাকলে সব মিলেই ঠিক আছে। ন্যাশনটেক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার মোঃ গোলাম ফারুক বলেন, স্তুপ করা বালু দিয়েই ব্লক নির্মাণ কাজ শুরু করেছি। এ বালুতে কোন সমস্যা নেই। সমস্যা হলে ব্লক নির্মাণ শেষে ল্যাব টেষ্ট করলেই সমস্যা ধরা পরছে। সমস্যা ধরা পরলে ব্লক পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ বাতিল করে দিবে। বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হান্নান প্রধান বলেন, বালুর এফএম মান ঠিক না থাকলে তা দিয়ে ব্লক নির্মাণ করতে দেয়া হবে না। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।