মধ্যরাতে শেষ হচ্ছে সমুদ্র ও নদীতে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা,চলছে জেলেদের শেষ সময়ের প্রস্তুতি
বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠুঃ ২৯ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে শেষ হচ্ছে সাগর ও নদীতে মাছ শিকারের উপর দীর্ঘ ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা। তাই গভীর সাগরে যাত্রার উদ্দেশ্যে ট্রলার মেরামত, ট্রলার ধোয়া মোচা ও ট্রলারে জাল তোলা সহ আনুসঙ্গিক সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে জেলেরা। জেলেদের আশা এবার তাদের জালে ধরা পড়বে কাংখিত ইলিশ। তবে নিষেধাজ্ঞাকালীন সরকারী প্রনোদনার চাল প্রকৃত জেলেরা পায়নি বলে দাবি তাদের। নিবন্ধিত জেলেদের বিপরীতে অনিবন্ধিত জেলের সংখ্যাও কম নয়। এসব অনিবন্ধিত জেলেরা প্রণোদনা থেকে বঞ্চিত রয়েছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য সংশ্লিষ্টরা।
এছাড়া এই সময়ে সাগরে পার্শ্ববর্তী দেশের জেলেদের আগ্রাসন ছিলো বলে জানান জেলেরা। তবে জেলেদের এসব দাবি শুধুমাত্র অনুমান নির্ভর বলে জানিয়েছেন মৎস্য কর্মকর্তারা।
অবরোধ সফল করতে জেলার নদী ও সাগরে ৪৮৪ টি অভিযান ও ১২৫ টি মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ১৪৮ জেলেকে কারাদন্ড, ১৬৭ টি মামলা, ৩ লক্ষ ১১ হাজার টাকা জরিমানা ও প্রায় ২০ লাখ মিটার জাল জব্দ করেছে মৎস্য বিভাগ। গভীর সাগরে গিয়ে জাল ফেললেই জেলেদের জালে ধরা পড়বে ঝাঁকে ঝাঁকে রুপালি ইলিশ বলে জানিয়েছেন মৎস্য কর্মকর্তারা। ইলিশের বাঁধাহীন প্রজননের জন্য ০৮ অক্টোবর থেকে ২৯ পর্যন্ত সাগর ও নদীতে মাছ ধরার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলো সরকার। এ সময় অলস সময় পার করেছেন জেলেরা।
জেলে সমুন হাওলাদার বলেন, সরকারের আইন মেনে আমরা ২২ দিন মাছ শিকার থেকে বিরত রয়েছি। আশা করি সমুদ্রে গিয়ে কাঙ্ক্ষিত মাছ নিয়ে তীরে ফিরবো।
কুয়াকাটা আশার আলো জেলে সমবায় সমিতির সাবেক সভাপতি নিজাম শেখ জানান, কুয়াকাটা সমুদ্র উপকূলে নিবন্ধিত জেলের বাইরেও অনেক জেলে নিবন্ধনের আওতায় আসেনি। তাই সকল পেশাজীবি জেলেরা যাতে নিবন্ধনের আওতায় আসে মৎস্য কর্মকর্তাদের সেদিকে নজর দেবার দাবী জানান তিনি।
কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদী এলাকায় কিছু অসাধু জেলে মাছ শিকারের উদ্যোগ নিলেও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সমুদ্র ও নদীতে সফলভাবে অবরোধ পালিত হয়েছে। আশা করা যায় জেলেরা এর সুফল পাবেন।