
আমতলী প্রতিনিধিঃ
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিসিৎসক ডাঃ সুমন খন্দকারের বিরুদ্ধে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার, স্টাফ ও রোগীর সাথে খারাপ আচরণ, জরুরী বিভাগে দায়িত্ব থাকা কালিন সময়ে স্বাস্থ্য সেবা না দিয়ে ডায়াগনিষ্টিক সেন্টারে আলটা¯েœাগ্রাম, চেম্বারে রোগী দেখা ও কর্তৃব্যে অবহেলাসহ নানাবিদ অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সকল অভিযোগের প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডাঃ শেখ মোহাম্মদ হাসান ইমামের স্বাক্ষরিত এক আদেশে সুমন খন্দকারকে ভোলা জেলা হাসপাতালে ্বদলি করা হয়েছে। ডাঃ সুমন খন্দকারের বদলির খবরে হাসপাতালের স্টাফ ও রোগীদের মাঝে স্বস্থি ফিরে এসেছে।
জানাগেছে, ডাঃ সুমন খন্দকার ২০১৯ সালের ১১ ডিসেম্বর আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সহকারী সার্জন হিসেবে যোগদান করেন। হাসপাতালে যোগদানের থেকেই তিনি শুরু করেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার, স্টাফ ও রোগীদের সাথে খারাপ আচারন। এছাড়াও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে অবহিত না করে কর্মস্থল ত্যাগ, হাসপাতালে অনুপস্থিত থাকা, কর্তব্যকালিন অবস্থায় হাসপাতালে আগত রোগীদের স্বাস্থ্য সেবা না দিয়ে বেলিভিউ ডায়াগনিষ্টিক সেন্টারে আলট্রা¯েœাগ্রাম ও চেম্বারে রোগী দেখেন। প্রতিনিয়ত তিনি হাসপাতালের রোগীদের সাথে খাবার আচারন করছেন। তার আচারনে ক্ষুব্দ রোগী, হাসপাতালের স্টাফ ও নার্সরা। এ বিষয়ে তার বিরুদ্ধে বরগুনা জেলা সিভিল সার্জন, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দিয়েও কোন প্রতিকার পায়নি ভুক্তভোগীরা। উল্টো সুমন খন্দকার রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে রোগী ও স্টাফদের হেনেস্থা করেছেন এমন অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। তার আচারনে আতঙ্কিত থাকেন রোগী ও স্টাফরা। তার এমন অনিয়মের বিরুদ্ধে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ শংকর প্রসাদ অধিকারী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবরে গত পয়েলা নভেম্বর লিখিত অভিযোগ দেন। ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য অধিপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডাঃ শেখ মোহাম্মদ হাসান ইমামের স্বাক্ষরিত এক আদেশে ডাঃ সুমন খন্দকারকে ভোলা জেলা হাসপাতালে বদলি করা হয়েছে। ওই আদেশে উল্লেখ আছে সুমন খন্দকারকে পত্র প্রাপ্তির তিন কার্যদিবসের মধ্যে পদায়নকৃত হাসপাতালে যোগদান করতে হবে। তার বদলির খবর আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছড়িয়ে পড়লে স্টাফ ও রোগীদের মধ্যে স্বস্থি ফিরে এসেছে। বদলির আদেশ মতে বুধবার তার শেষ কার্যদিবস হলেও তিনি কর্তৃপক্ষকে অবহিত না করে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। এদিকে তার বদলির আদেশ প্রত্যাহারের জন্য একটি মহল উঠেপড়ে লেগেছে।
রোগী মজিদ, শহীদুল ও আলম বলেন, হাসপাতালে ডাঃ সুমন খন্দকারকে দেখাতে গিয়েছিলাম কিন্তু তিনি আমাদের সাথে খারাপ আচারন করেছেন।
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার আলহাজ¦ হারুন অর রশিদ ও সিএসসিপি রাশেদুল ইসলাম বলেন, ডাঃ সুমন খন্দকার জরুরী বিভাগ দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় বাহিরে ডায়াগনিস্টিক সেন্টারে আলট্রা¯েœাগ্রাম করতে গেলে রোগীরা ্এসে ফিরে যাচ্ছে। এ বিষয়টি তাকে অবহিত করলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে আমাদের সাথে খারাপ আচরন করেন। এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি কিন্তু কোন প্রতিকার পাইনি। উল্টো তিনি আমাদের চাকুরীচ্যুত করার হুমকি দিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের কয়েকজন বলেন, ডাঃ সুমন খন্দকার হাসপাতালে যোগদানের পর থেকেই স্টাফ ও রোগীদের সাথে খারাপ আচারন করে আসছেন। তারা আরো বলেন, সুমন খন্দকারের বদলির আদেশে হাসপাতালের স্টাফ ও রোগীদের মাঝে স্বস্থি ফিরে এসেছে।
বদলিকৃত চিকিৎসক ডাঃ সুমন খন্দকার সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমাকে বদলি করা হয়েছে। আমি বদলি আদেশের ফরওয়ার্ডিং নেয়ার জন্য এসেছি। দেখি কি করা যায়?
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শংকর প্রসাদ অধিকারী বলেন, ডাঃ মোঃ সুমন খন্দকারের বিরুদ্ধে উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার, স্টাফ ও রোগীর সাথে খারাপ আচারণ, জরুরী বিভাগে দায়িত্ব থাকা কালিন সময়ে স্বাস্থ্য সেবা না দিয়ে ডায়াগনিষ্টিক সেন্টারে আলট্রা¯েœাগ্রামসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগ পেয়ে তাকে সংশোধনের চেষ্টা করেছি। কিন্তু উল্টো তিনি আমাকে বিভিন্ন ভাবে হেনেস্থা করেছেন। তিনি আরো বলেন, আমার অভিযোগের প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষ তাকে ভোলা জেলা হাসপাতালে বদলি করেছেন।
Leave a Reply