বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:২১ পূর্বাহ্ন

এস কে রঞ্জনঃ কলাপাড়ার লালুয়া ইউনিয়নে প্রক্রিয়াধীন পায়রা সমুদ্র বন্দরের ভূমি অধিগ্রহনের জটিলতায় পরে ২১৪ পরিবার স্থায়ী সম্পত্তি ও পৈত্রিক বসতবাড়ি হারিয়ে এখন অসহায়, মানবেতর জীবনযাপন করছে। সরকারের সিদ্ধান্ত ও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে একাত্মতা পোষন করে শত বছরের পৈত্রিক সহায় সম্পত্তি ছেড়ে দিয়ে এখন অধিগ্রহনের টাকা ও পুনর্বাসনের জন্য পটুয়াখালী ভূমি হুকুম দখল শাখা ও পায়রা বন্দর পুনর্বাসন প্রকল্প র্ডপের পিছনে ঘুরে বেড়াচ্ছে আসহায় পরিবার গুলো। প্রায় শত পরিবার বেড়িবাধেঁর বাহিরে খুপরি ঘর করে ঝুঁকিপুর্ন ভাবে বসবাস করছে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়,উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নের চাড়িপাড়া গ্রামে একসময় যাদের গোলা ভরা ধান আর গোয়াল ভরা গরু ছিলো আজ তারা সব হারিয়ে বেড়িবাঁধের বাহিরে খুপরি ঘর করে আশ্রয় নিয়েছেন। ভূমি হুকুম দখল শাখা পটুয়াখালী ও পায়রা বন্দর পুনর্বাসন প্রকল্প র্ডপে একশ্রেনীর দালাল চক্রের কারনে বিভিন্ন মামলার জটিলতায় ভুক্তভোগী ২১৪ পরিবার। এই পরিবার গুলো বসতবাড়ির টাকা পেলেও তাদের কপালে জোটেনি আবাসনের ঘর। এদের মধ্যে বেড়িবাধেঁর বাহিরে যারা বসবাস করছে তাদের করুন অবস্থা। করোনার কারনে মানুষ যখন আসহায় তখন বেড়িবাঁধের বাহিরে বসবাস করা মানুষ গুলোর দুর্ভোগের শেষ নেই, জোয়ারের পানি আসলে খুপড়ি ঘর ডুবে যায়, তখন পরিবারের সদস্যরা চাড়িপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনে আশ্রয় নেয়। অধিককাংশ সময় অনাহারে দিন কাটায়। উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নের চাড়িপাড়া, নয়াকাটা, হাসনাপাড়া ও বানাতিপাড়াসহ কয়েকটি গ্রামে ভূমি অধিগ্রহনে সর্বস্বহারা মানুষগুলোর চিত্র একই রকম।
অধিগ্রহনে সব হারানো চান মিয়া, আকবর ফকির, বাবুল মিয়া, মোসারেফ হাওলাদার, রিমন হাওলাদার সহ অনেকে বলেন, একটি দালাল চক্র মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদের জমির টাকা আটকিয়ে রাখছে। একদিন আমাদের সব ছিল এখন অমাদের কিছ’ নাই, আমরা বেশ কিছু পরিবার বেড়িবাধেঁর পাশে আশ্রয় নিয়েছি। আমাদের মধ্যে আনেকের কাছ থেকে র্ডপের মাঠকর্মীরা আবাসনে ঘর দেয়ার জন্য দুই বার কাগজপত্র জমা নিয়েছে তবুও আমরা ঘর পাইনি।
অধিগ্রহনে সব হারানো রাহিমা বেগম, মলিনা বেগম, লাবলী বেগমসহ অনেকে বলেন, দেখে যান আমাদের এই হলো বাদশাহী জিবন যাপন,বন্দরের লোক বলছে আবাসনে ঘর দিয়া আমাদেরকে নামাবে,ঘর না দিয়া রাতের আধারে আমাদের বাড়ি থেকে বেড় করে দিয়েছে। র্ডপের লোকজনকে যারা টাকা দিতে পারে তারাই ঘর পায় আমরা টাকা দিতে পারিনা তাই ঘর পাইনা। পরিবার নিয়ে এখন বেড়িবাধেঁর বাইরে খুব কষ্টে জীবন যাপন করছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমাদের দাবি,তার কথায় আমরা সব দিয়েছি, এখন আমরা জমির টাকাও পাইনা এবং আবাসন পাইনা। আমরা থাকবো কোথায়। খাবো কি?
লালুয়া ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. রবিউল ইসলাম বলেন, এই পরিবার গুলো খুব অসহায়,ইউনিয়ন পরিষদ থেকে যতুটুকু ত্রান পেয়েছি তা নিয়ে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছি, বেড়িবাধের বাহিরে থাকা মানুষ গুলোর একটা ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের কাছে আমি বিনিত অনুরোধ করছি।
পায়রা বন্দর পুনর্বাসন প্রকল্প র্ডপের ডেপুটি টিম লিডার গোলাম সরোয়ার টিপু জানান, অধিগ্রহনকৃত পরিবারদের প্রতি আমার অনুরোধ র্ডপের কোন মাটকর্মী অথবা কর্মকর্তা যদি অপিরিতিকর কোন ঘটনার সাথে জড়িয়ে থাকে তা হলে আমার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নিব।
লালুয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শওকত হোসেন তপন বিশ্বাস বলেন, সংঘবদ্ধ দালাল চক্র মিথ্যে বানোয়াট জালজালিয়াতি করে বিভিন্ন মামলা দিয়ে এই মানুষ গুলোকে হয়রানি করে আসছে, বসত বাড়ির টাকা পেলেও মামলা থাকার কারনে তারা অধিগ্রহনের টাকা এবং পুনর্বাসনের ঘর পায়নি।
পটুয়াখালী ভূমি হুকুম দখল শাখা কর্মকর্তা মো.আল ইমরান বলেন, মামলা চলমান থাকা অবস্থায় আমরা অধিগ্রহনকৃত টাকা দিতে পারিনা।
পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) ও য্গ্নু সচিব মহিউদ্দিন আহমেদ খান বলেন, মামলা জটিলতার কারনে যে পরিবার গুলো এখন প্রযন্ত আবাসন পায়নি, তাদের মামলা দ্রুত সমাধান করে পুনর্বাসিত করা হবে।
© All rights reserved 2022 © aponnewsbd.com
Leave a Reply