শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ০৩:১৫ পূর্বাহ্ন

আমতলী প্রতিনিধিঃ আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বৈকালিন চিকিৎসা কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। তবে প্রচারণার অভাবে বেশিরভাগ রোগীরা জানেন না এই চিকিৎসা কেন্দ্রের কথা। তাই তারা অতিরিক্ত টাকা খরচ করে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের স্বজনরা বলছে, পুরো উপজেলা জুড়ে মাইকিং করে প্রচারনা চালালে রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। প্রচার প্রচারনার অভাবে হাসাপতালের বৈকালিন স্বাস্থ্য সেবার কার্যক্রম ঝিমিয়ে ঝিমিয়ে চলছে।
জানা গেছে , কম মূল্যে রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে গত ৩০ মার্চ সারা দেশের ১২টি জেলা পর্যায়ের হাসপাতালে এবং ২১ টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বৈকালিক চিকিৎসা সেবা উদ্বোধন করা হয়। এই স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের আওতায় পড়েছে বরগুনার আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।এখানে প্রতিদিন বিকাল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চিকিৎসকরা সরকারি নির্ধারিত মূল্যে চিকিৎসা প্রদান করেন। এ সময় খোলা থাকে হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগ। যেখানে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে রোগীরা তাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে পারেন। তবে উদ্বোধনের ১৩ দিন পার হলেও প্রচার প্রচারণার অভাবে রোগী আসছে না এই বৈকালিক চিকিৎসা কেন্দ্রে। এই ১৩ দিনে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বৈকালিন চিকিৎসা কেন্দ্রে চিকিৎসা নিয়েছেন ৫০ জন রোগী।
বুধবার সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে বেসরকারি চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোতে রোগীদের ভিড় থাকলেও রোগী নেই উপজেলা স্বাস্হ কমপ্লেক্সের বৈকালিন চিকিৎসা কেন্দ্রে। বেসরকারি চিকিৎসা কেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর স্বজনরা বলছেন, তারা জানেন না উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বৈকালীন স্বাস্থ্যসেবার কথা। না জানার কারণে তারা অতিরিক্ত টাকা ব্যয় করে বেসরকারি চিকিৎসা কেন্দ্রে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাই তারা দাবি করছেন বৈকালিন স্বাস্থ্যসেবার বিষয় সবাইকে জানানোর জন্য গ্রাম পর্যায়ে মাইকিং করানোর। প্রচার প্রচারনা বৃদ্ধি পেলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বৈকালীন স্বাস্থ সেবায় রোগীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আব্দুল মুনয়েম সাদ।
আমতলী বেসরকারি চিকিৎসা কেন্দ্র সময় মেডিকেয়ার এন্ড হসপিসে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর স্বজন মোঃ সোহেল রানা বলেন , আমি গাজিপুর এলাকা থেকে এসেছি। অসুস্থ আত্মীয়কে ডাক্তার দেখিয়েছি। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বৈকালিক চিকিৎসা স্বাস্থ্যসেবার বিষয় আমার জানা নেই। আপনার মাধ্যমেই জানলাম। জানা থাকলে আমার চিকিৎসা খরচ অনেকটা কম লাগতো।
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বৈকালিন চিকিৎসা কেন্দ্রের দায়িত্বরত চিকিৎসক মোঃ জায়েদ আলম ইরাম বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসনীয় উদ্যোগকে বাস্তবায়ন করার জন্য প্রতিদিন তিনটা থেকে ছয়টা পর্যন্ত বৈকালিন স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রে চিকিৎসা দিচ্ছি। যথেষ্ট প্রচার প্রচারনার অভাবে রোগীর সংখ্যা কিছুটা কম। তবে তার ধারণা প্রচার প্রচারনা বাড়ালে আস্তে আস্তে রোগী বৃদ্ধি পাবে।
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আব্দুল মুনয়েম সাদ বলেন, বৈকালিন স্বাস্থ্য সেবা প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার ভিষন বাস্তবায়নের একটি অংশ। আমরা আপ্রান চেস্টা করছি রোগীর সেবা দিতে। রোগীরা কম খরচে ভালো স্বাস্থ্য সেবা পাচ্ছে। তিনি আরো বলেন প্রচার প্রচারনা বৃদ্ধি পেলে রোগীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাবে ।
বরগুনা সিভিল সার্জন ডা: মোহাম্মদ ফজলুল হক বলেন, আমরা সবাইকে আস্তে আস্তে জানানোর চেষ্টা করতেছি। বেশি প্রচারণা করতে গেলে সরকারের উপর মানুষের খারাপ ধারণা আসতে পারে। যেহেতু সরকারি হাসপাতালগুলোতে সকালে বিনামূল্যে চিকিৎসা প্রদান করা হয়। সেক্ষেত্রে মানুষ ধারণা করতে পারে আমরা তাদেরকে বৈকালিন চিকিৎসা নিতে উৎসাহিত করছি। তবে বৈকালিন স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে এসে কেউ যেন ফিরে না যায় সেটা আমরা নিশ্চিত করবো।
© All rights reserved 2022 © aponnewsbd.com
Leave a Reply