মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:৩১ পূর্বাহ্ন

বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠুঃ বঙ্গোপসাগর আকস্মিকভাবে উত্তাল হয়ে ওঠেছে। ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে বুক ভরা আশা নিয়ে রূপালি ইলিশের সন্ধানে নেমেছিলো উপকূলের জেলেরা। গভীর সমুদ্রে প্রচন্ড ঢেউয়ের তোড়ে টিকতে না পেরে তীর ফিরে এসেছেন তারা। কূলে ফিরে আসা জেলেদের চোখে মুখে হতাশার ছাপ দেখা গেছে।
উপকূলের মৎস্য বন্দরগুলো ঘুরে দেখা গেছে, গত ২৩ জুলাই মধ্যরাতে ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে গভীর সমুদ্রে যাত্রা করে উপকূলের সস্রাধিক মাছ ধরা ট্রলার। নতুন ও মজবুত ট্রলারগুলো গভীর সমুদ্রে গেলেও পুরানো ট্রলার (ফিটনেসবিহীন) সাগরের মোহনা থেকে ঘাটে ফিরে এসেছে। আর গভীরে যাওয়া ট্রলারগুলো উত্তাল সমুদ্রে দুই একবার জাল ফেলে মাছ না পেয়ে নিরাপদে কূলে এসেছে। ২৬ জুলাই সকালের মধ্যে সবগুলো ট্রলার উপকূলের বিভিন্ন স্থানে নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছে। সাগর মাছ ধরার উপযোগী হলে আবার গভীর সমুদ্রে যাত্রা করবে। ছিড়া জাল বুনতে ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলেরা।
জেলে তৈয়ব আলী বলেন, আমরা সাগরে যাবার সময় মোহনা থেকে প্রচন্ড তুফান দেখছি। ভাবনা ছিলো গভীর সমুদ্রে ঢেউ কম থাকবে। কিন্তু গভীর সমুদ্রেও প্রচুর তুফান এবং প্রচন্ড স্রোত রয়েছে। তারপরও একবার জাল ফেলছিলাম। কিন্তু ঢেউয়ের ঝাপটায় সব জাল রশির সাথে প্যাঁচিয়ে এবং ছিড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। জাল ঠিক করতে কমছে কম এক সপ্তাহ সময় লাগবে।
এফ.বি তামান্না ট্রলারের মাঝি মো.ইউনুস মিয়া বলেন, ট্রলারে তৈল ও বরফ ভরে প্রস্তুতি নেওয়া ছিল। ২৪ জুলাই সকালে সমুদ্রে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সাগর উত্তাল হওয়ার খবর পেয়ে আর যাওয়া হয়নি। মাছ ধরার উপযোগী হলে সমুদ্রে যাবো।
এফ.বি বিসমিল্লাহ-০১ ট্রলারের মাঝি একলাছ গাজী বলেন, ২৩ জুলাই গভীর রাতে আলীপুর ঘাট থেকে সমুদ্রে গিয়েছিলাম। ২৪ জুলাই দুপুরের জোয়ারে হঠাৎ সমুদ্র উত্তাল হয়ে ওঠে। তারপরও ঝুঁকি নিয়ে দুই দিন ফিশিং করে ২৫ জুলাই রাত্রে ঘাটে এসে মাত্র এক লক্ষ টাকা বিক্রয় করেছি। বড় সাইজের ইলিশ ধরা পরেনি। ছোট ও মাজারি সাইজের ইলিশ আছে।
মৎস্য বন্দর আলীপুরের ব্যবসায়ী মনি ফিসের মালিক আ: জলিল ঘরামী বলেন, ৬৫ দিনের অবরোধ শেষে জেলেরা সমুদ্রে গিয়েছিলো। সমুদ্র উত্তাল থাকার কারণে ঘাটে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছেন। তারা শুধু খাবার মাছ পেয়েছেন। আমরা মৎস্য সংশ্লিষ্ট সকলে হতাশ।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, অবরোধ শেষে যে সকল ট্রলার গভীর সমুদ্রে গিয়েছিলো তা ঘাটে ফিরে এসেছে। সমুদ্রে প্রচন্ড ঢেউ ও স্রোত রয়েছে। চলমান জোর প্রভাবে সমুদ্র অস্বাভাবিক উত্তাল। আগামী দুই-তিন দিনেও সমুদ্র স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা নেই। আমাবস্যার জোর প্রভাব কেটে গেলে সমুদ্র স্বাভাবিক হবে। তখন জেলেদের জালে প্রচুর পরিমাণে ইলিশ ধরা পরবে বলে আশা করছি।
© All rights reserved 2022 © aponnewsbd.com
Leave a Reply