রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৩:১৬ পূর্বাহ্ন

আমতলী প্রতিনিধিঃ বরগুনার তালতলীতে তরমুজ চাষীদের কাছে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা জহিরুল ইসলাম ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে তরমুজ চাষী রাকিব ভদ্দর বাদী হয়ে তালতলী থানায় শহীদুল ইসলামসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা করেছেন। পুলিশ বুধবার দুপুরে আসামী জহিরুল ইসলামকে আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করেছেন। আদালতের বিচারক শরীয়াতুল্লাহ তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। ঘটনা ঘটেছে তালতলী উপজেলার চরপাড়া গ্রামে মঙ্গলবার সন্ধ্যায়।
জানাগেছে, তালতলী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ২’শ ৩৫ হেক্টর জমিতে আগাম জাতের তরমুজ চাষ করেছে। ওই তরমুজ বাজারে বিক্রি হচ্ছে। পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার চম্পাপুর ইউনিয়নের পাটুয়া গ্রামের রাকিব ভদ্দরসহ পাঁচজন কৃষক তালতলী উপজেলার চরপাড়া গ্রামে ৮০ একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। মঙ্গলবার ওই তরমুজ চাষিরা পাইকারদের কাছে বিক্রি করে দেন। ব্যবসায়ীরা তরমুজ কাটতে শুরু করেন। ওই সময় তালতলী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য জহিরুল ইসলাম ও তার সহযোগী শহীদুল ইসলাম প্রত্যেক চাষির কাছে ২০ হাজার টাকা করে চাঁদা দাবী করেন। চাষিরা তাদের দাবীকৃত চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় জহিরুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা তরমুজ কাটা বন্ধ করে দেয়। নিরুপায় হয়ে চাষি রাকির ভদ্দর তালতলী থানায় অভিযোগ দেন। খবর পেয়ে তালতলী থানার ওসি মোঃ শাহজালাল ঘটনাস্থলে আসেন। পরে ঘটনার সঙ্গে জড়িত উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দল সদস্য মোঃ জহিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেন তিনি। এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে তালতলী থানায় তরমুজ চাষী মোঃ রাকিব ভদ্দর বাদী হয়ে শহীদুল ইসলামকে প্রধান আসামী করে ৮ জনের নামে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় অন্য আসামীরা হলেন, মোঃ জহিরুল ইসলাম, আবু হানিফ, রাকিব মৃধা, কাসেম খাঁন, জলিল খাঁন, রুবেল খাঁন ও খলিল খাঁন। বুধবার দুপুরে আসামী জহিরুল ইসলামকে পুলিশ আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করেছেন। আদালতের বিচারক শরীয়াতুল্লাহ তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
তরমুজ চাষী মামলার বাদী মোঃ রাকিব ভদ্দর বলেন, কলাপাড়া উপজেলার চম্পাপুর ইউনিয়নের পাটুয়া গ্রামের পাঁচজন তরমুজ চাষী তালতলী উপজেলার চরপাড়া গ্রামে ৮০একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছি। ওই তরমুজ বিক্রি করতে গেলে জহিরুল ইসলাম, শহীদুল ইসলামসহ আসামীরা প্রত্যেক তরমুজ চাষীর কাছে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবী করেন। তাদের দাবীকৃত টাকা দিতে অস্বীকার করায় তারা আমাদের তরমুজ কাটা বন্ধ করে দেয়। নিরুপায় হয়ে তাদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দিয়েছি। তিনি আরো বলেন, এখন আসামী জহিরুল, শহীদুল ও তার স্বজনরা মামলা তুলে নিতে প্রাণ নাশের হুমকি দিচ্ছে।
বরগুনা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক রাজিবুল ইসলাম সোহেল বলেন, জহিরুল উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক কমিটির সদস্য। তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শেখ এনামুল করিম বলেন, গ্রেপ্তারকৃত আসামী জহিরুল ইসলামকে আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে।
আমতলী থানার সিএসআই মোঃ হেলাল উদ্দিন বলেন, আসামী জহিরুল ইসলামকে আদালতের বিচারক জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তাকে বরগুনা জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
তালতলী উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ আবু জাফর বলেন, তরমুজ চাষীদের যে কেউ বিরক্ত করলেই তার বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে। যাতে চাষিরা নিরাপদে তরমুজ বাজারজাত করতে পারেন।
তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ শাহজালাল বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তরমুজ চাষী থানায় মামলা দায়ের করেছেন। আসামী জহিরুলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপর আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যহত আছে।
© All rights reserved 2022 © aponnewsbd.com
Leave a Reply