বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:৫৭ পূর্বাহ্ন

আপন নিউজ ডেস্কঃ কুয়াকাটা মহাসড়কে পৌরসভার রশিদে টোল আদায়ের নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। গত দুইদিন ধরে সড়কও জনপথের রাস্তায় চলাচলকারাী
পর্যটকবাহীও যাত্রীবাহী বাসসহ সকল প্রকার যানবাহন থেকে ২০ থেকে ১’শ টাকা পর্যন্ত টোল আদায় করা হচ্ছে। নির্মাণাধীন বাসষ্টান্ডের কাজ সম্পন্ন হয়নি, কাজ শেষ হতে এখনও এক বছর সময় লাগবে। তারপরও ওই বাসষ্ট্যান্ডের নামে মহাসড়কে টোল আদায়ের কাজ চলছে। কুয়াকাটা পৌরসভা গঠনের পর থেকে এমন টোল ব্যবস্থা চালু না থাকায় বিব্রত হচ্ছেন আগত পর্যটকসহ দর্শণার্থীরা। পৌর কর্তৃপক্ষের দাবী পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনের অনুমতি ক্রমে এ টোল আদায় করছেন তারা।
এদিকে স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারীসহ ট্রাক, ট্রলি, পিকআপ, ভ্যান মালিক ও শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাদের অভিযোগ কুয়াকাটা পৌরসভা বে-আইনি ভাবে মহাসড়কে এ টোল আদায়ের নামে চাঁদাবাজি করছে। এ ঘটনায় গত দুইদিন ধরে নির্মাণ সামগ্রী বহনকারী ২ শতাধিক ট্রলি গাড়ী বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন ট্রলি মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক জামাল মল্লিক।
জানা গেছে, কুয়াকাটা পৌরসভার নির্মাণাধীন বাস টার্মিনালের পাশে মহাসড়কে তেলের ব্যারেল, বাঁশ ও লাল কাপড় দিয়ে রাস্তায় ব্যারিকেড সৃস্টি করে রেখেছে। মঙ্গলবার থেকে ৩/৪জন যুবক চেয়ার টেবিল বসিয়ে গাড়ি থামিয়ে পৌরসভার স্লিপ ধরিয়ে যাত্রীবাহী পরিবহন, ট্র্যাক ও কাভার্ড ভ্যানসহ ভারী যানবাহন থেকে ১ শ’ টাকা, মাইক্রোবাস, মিনিবাসসহ মাঝারী গাড়িগুলো থেকে ৫০-৭০ টাকা, ভ্যান, রিক্সাসহ হালকা যানবাহন থেকে ২০ টাকা করে আদায় করছে। আদায়কৃত রশিদ বইতে পৌরসভার স্মারক নম্বারসহ পৌরকর্তৃপক্ষের ইজারা আদায়ের অনুমোদনের বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়নি।
টোল আদায়কারী কুয়াকাটা পৌরসভার পরিচ্ছণ্নতাকর্মীর সুপারভাইজার মো: ইউসুফ
বলেন, বাসষ্ট্যান্ডের খাস আদায়ের জন্য পৌরসভার দায়িত্ব পালন করছেন তারা।
ট্রলি ড্রাইভার হাবিব খান জানায়, দৈনিক ৮-১০ বার কুয়াকাটা পৌরসভার অভ্যন্তরে মালামাল পরিবহন করতে হয়। প্রতিবার মাল পরিবহনে ১’শ টাকা দিলে লাভের সবটুকুই দিতে হবে পৌরসভাকে।
ট্রলি মালিক সমিতির সভাপতি কামাল গাজী বলেন, মহসড়ক আটকে এ টাকা আদায়
পৌরসভার নিছক চাঁদাবাজি ছাড়া অন্য কিছুই হতে পারে না। সুবিধাভোগীদের সাথে পরামর্শ ছাড়া এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারে না পৌরসভা।
পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা কাব্যলাল চক্রবর্তী জানিয়েছেন, তিনবার পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়েও মাছ মহল, বাঁশ সামগ্রী ও বাস ষ্ট্যান্ডের জন্য ইজারাদার পাওয়া যায়নি। পৌরসভার ইজারা বাস্তবায়ন কমিটির সিদ্ধান্ত ও অনুমোদনক্রমে খাস আদায় চলছে।
সড়ক ও জনপদ বিভাগের পটুয়াখালী নির্বাহী প্রকৌশলী মীর মোহাম্মদ কামরুজ্জামান জানান, সওজ’র সড়কে টোল আদায়ের সুযোগ নেই পৌরসভার।
কুয়াকাটা পৌরসভার মেয়র আনোয়ার হাওলাদার গনমাধ্যমকে বলেন, বাস ষ্ট্যান্ডের নির্মাণ কাজ শেষ পর্যায়। বৈশাখ মাসে পৌরসভার হাট বাজার সহ রাজস্ব আদায়ের আর্থিক বছর শুরু হওয়া দরপত্রের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। কাম্য সংখ্যক দরপত্র ও ইজারার ন্যায্যতা না পাওয়ায় ইজারা বাস্তবায়ন কমিটির সিদ্ধান্তে খাস আদায় চলছে।
কুয়াকাটা হোটেল- মোটেল ওনার্স এ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক মোতালেব শরীফ বলেন, মহসড়কে টোল আদায় কুয়াকাটা পর্যটন শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তিনি আরও বলেন, মহাসড়কে কোথাও পৌর সভার টোল আদায়ের নজির নেই।
পটুয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ হুমায়ুন কবির বলেন, মহসড়কে পৌরসভার খাস আদায়ের অনুমতি দেওয়া হয়নি। বাস ষ্ট্যান্ডের দরপত্রে কাঙ্খিত ইজাদারদার না পাওয়ায় খাস আদায়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে বাস ষ্ট্যান্ড নির্মাণাধীন, পুর্নাঙ্গ চালু হলেই কেবল টোল আদায় প্রক্রিয়া শুরু হবে।
© All rights reserved 2022 © aponnewsbd.com
Leave a Reply