সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:১৬ অপরাহ্ন

মো. ওমর ফারুকঃ জেনারেটর আছে তেল নেই, আইপিএস আছে নেই তার ব্যাটারি। খাবার তৈরী ও বিতরণ এবং ঔষধ ব্যবস্থাপনাসহ হাজারো অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে কলাপাড়া উপজেলার ৫০ শস্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিরুদ্ধে। প্রচন্ড গরমে রোগীদের আকুতি কিছুতেই যেনো পৌঁছাচ্ছে না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কানে। রয়েছে সেবিকা ও ওয়ার্ডবয়সহ ডাক্তারদের অবহেলার বিস্তর অভিযোগ। অথচ সরকারি সীমাবদ্ধতার দায়সাড়া উত্তর দিচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
সরেজমিনে জানা যায়, কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে লোড শেডিংয়ের সময়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবাহের জন্য একটি জেনারেটর এবং একটি আইপিএস রয়েছে। অথচ এতোকিছু থাকার পরেও বিদ্যুৎ বিরম্ভনায় ভূগছে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা হতভাগা রোগীরা। গরমের তাপদাহে ঘন্টার পর ঘন্টা লোড শেডিংয়ে ভূগতে হচ্ছে তাদের। বিদ্যুতের অভাবে হাতপাখা দিয়ে শরীর ঠান্ডা রাখার চেষ্টা করছেন অনেকেই। এদিকে, অন্ধকারে মোবাইল টর্চ জ্বালিয়ে সেবা নিতে দেখা যায় একাধিক রোগীকে। রয়েছে খাবার ও ঔষধ বিতরণে অব্যবস্থাপনার অভিযোগ। প্রতিদিনের খাবার ম্যানুতে যে মানের খাবার দেয়া কথা কার্যত সেগুলোর তোয়াক্কা করছেন না কেহ। ভর্তী রোগীরা ঠিকমত ঔষধ পাচ্ছেন না বলেও রয়েছে অভিযোগ। কম দামী ঔষধ পাওয়া গেলেও তুলনামূলক দামী ঔষধগুলো বাহির থেকেই কিনতে হয় রোগীদের। তবে, দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া সবকিছু ঠিকঠাক চলছে বলে দাবী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের।
পাখিমারা থেকে আগত রোগী সবুজ বলেন, প্রচন্ড গরমে সেবা নিতে এসে বিদ্যুতের অভাবে আরো অসুস্থ হয়ে পরছেন তিনি। দ্রুত হাসপাতাল থেকে চলে যাওয়ার মন্তব্য করেন তিনি।
অপর এক মহিলা রোগী অত্যান্ত আক্ষেপ করে বলেন, “এতো কষ্ট করে কেমনে থাহে হাসপাতালে? বিদ্যুৎ নাই, বাতি নাই। এতো সমস্যার মধ্যে কেমনে থাকে? রোগীর সাথে এসে তিনি নিজেই এখন রোগী হয়েছেন।” তিনি আরও বলেন, “একটু ঔষুধ দেয়না ঠিকমত। কোন ঔষুধই নাই, সব নাকি খালি হয়ে গেছে। এটা কেমন হাসপাতাল?”
কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প:প: কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা: বিকাশ রায় বলেন, গত দুই বছর ধরে জেনারেটরের ব্যাটারি অকার্যকর এবং সরকারিভাবে তেলের বাজেট না দেয়ায় জেনারেটরটি এখন বন্ধ রয়েছে। লোড শেডিংয়ের সময়ে জেনারেটরের বিকল্প হিসেবে আইপিএস চলমান থাকে। সেটার ব্যাটারিও হঠাৎ নষ্ট হয়েছে। অতিদ্রুত আইপিএস’র ব্যাটারি ঠিক করে হাসপাতালে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। আপতত লোড শেডিংয়ের সময়ে এনাজিং সেভিং বাল্ব দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে। তবে, খাবার ও ঔষধ বিতরনে অনিয়মের বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন বলে তিনি সাংবাদিকদের জানান।
© All rights reserved 2022 © aponnewsbd.com
Leave a Reply