বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ১২:৫১ পূর্বাহ্ন

কলাপাড়ায় বিদ্যালয় মাঠে জলাবদ্ধতা, খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত শিক্ষার্থীরা
রিপোর্ট–মো. ওমর ফারুকঃ নামে বিদ্যালয় মাঠ কিন্তু বছরের প্রায় বার মাসই থাকে জলাবদ্ধ। বর্ষা মৌসুমে যা পুকুরে পরিণত হয়। খেলাধুলা তো দূরের কথা, বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার রাস্তাটিও তখন তলিয়ে যায়। সাঁতার কাটতে দেখা যায় গৃহপালিত হাঁসসহ অন্যান্য পশু-পাখিকে। কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের নবীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এমন দৃশ্য দেখা যায়। বিদ্যালয়ের মাঠের অভাবে খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হয়ে মানসিক বিকাশে বাধাঁর সম্মুখিন হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। অথচ সামান্য কিছু অর্থ এবং কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছা হলে খুব সহজেই এই সমস্যার পরিত্রাণ সম্ভব বলে মনে করছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ অভিভাবকরা।
সরেজমিনে জানা যায়, ১৯২৭ সালে ৪১ নং নবীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়েছে। প্রায় শত বছরের পুরানো এ বিদ্যালয়টিতে এখনও নেই সুসজ্জিত খেলার মাঠ। রয়েছে পাঠদান কক্ষের সংকট। একতলা ভবনের এ বিদ্যালয়টিতে মোট ৩ টি কক্ষ রয়েছে। যার একটিতে অফিস এবং বাকী দুটি কক্ষে চলছে পাঠদান। প্রয়োজনের তুলনায় যা খুবই নগন্য। নেই কোন বাউন্ডারি দেয়াল। ফলে, পাশ্ববর্তী বাসিন্দাদের গরু-মহিষ ও হাঁস-মুরগীর অভয়াচরন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে বিদ্যালয় প্রাঙ্গন। খেলার মাঠ হিসেবে যে অংশটুকু রয়েছে তা প্রায় বার মাসই থাকে পানিতে তলিয়ে। শুকনো মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায় আর বর্ষা মৌসুমে তা পরিণত হয় জলাশয়ে। শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছে খেলাধুলা ও শরীর চর্চা থেকে। এতে মানসিক বিকাশে বাধাঁগ্রস্থ হচ্ছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, “স্কুলের মাঠ ভরাট করা লাগে, খেলাধূলার মাঠ নাই। রাস্তা ভালো নাই, ওখানে ছেলে-মেয়েরা আচার-পাচার খায়। তারপর রুম নাই, দুইটা রুমে ক্লাশ হয়। আরো রুম লাগে।”
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা আফরোজা আক্তার পলি বলেন, “খেলার মাঠ নাই, বর্ষাকালে পানি জমে যায়। আমাদের আসতেও সমস্যা হয়। স্কুলে সুন্দর একটা রাস্তাও নাই। তারপর ক্লাশ রুমের সংকট। দুইটা ক্লাশ রুমে আমরা তিনটা ক্লাশ করাই এবং সুজ্জিত কোন কক্ষও নাই।”
অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিরেন চন্দ্র পাইক জানান, বিদ্যালয়ের মাঠ নেই। যতটুকু রয়েছে সেটাতেও প্রায় বারো মাসই পানি জমে থাকে। রয়েছে শ্রেণী কক্ষের সংকট। এছাড়া, বিদ্যালয়ের চারপাশে বাউন্ডারি দেয়াল না থাকায় গরু-মহিষ এবং হাঁস-মুরগীর অভয়াচরন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এনিয়ে প্রতিনিয়তই প্রতিবেশীদের সাথে মনোমালিন্য হয়। বিদ্যালয়ের মাঠসহ অন্যান্য বিষয়গুলো উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন বলে তিনি জানান।
কলাপাড়া প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শাহিদা বেগম বলেন, “আপনাদের মাধ্যমে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হলাম। খুব শীঘ্রই আমি অথবা আমার প্রতিনিধি সরেজমিনে পাঠাবো।” অতিদ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি সাংবাদিকদের জানান।
© All rights reserved 2022 © aponnewsbd.com
Leave a Reply