ঢাকা থেকে সাইকেলে করে আসলেন কলাপাড়ায়

মে ১১ ২০২১, ২৩:৪৩

ঢাকা থেকে সাইকেলে করে আসলেন কলাপাড়ায়

আপন নিউজ রিপোর্টঃ কলাপাড়া পৌরসভার বাদুরতলী এলাকার আঃ রাজ্জাক শরীফের ছেলে মোঃ মান্নুন ইসলাম। বি.এম কলেজ থেকে বি.বি.এ শেষ করে ২০১৮ সাল থেকে ঢাকাতে থাকেন তিনি। স্বপ্ন ছিল সাইকেল করে বাড়িতে আসার। সেই স্বপ্ন পূর্ণ করলেন লকডাউনে যখন গণপরিবহন বন্ধ, তখনই সাইকেল করে ৪৮ ঘন্টা সময় পথ পাড়ি দিয়ে কলাপাড়ায় আসছেন।

মোঃ মান্নুন ইসলাম আপন নিউজ’কে বলেন, বিগত ২০১৮ সাল থেকে ঢাকায় সেটল হওয়ার পরেই মাথায় ঢাকা থেকে সাইকেলে কলাপাড়ায় আসার ইচ্ছে ভর করে। কিন্তু সাথে কাউকে না পাওয়ায় অনেকদিন হয়ে উঠেনি। তবে এই ২০২১ সালে করোনায় লকডাইনে যখন সব গণপরিবহন বন্ধ তখন আমি আর আমার রুমমেট সাইফুল ইসলাম রাসেল প্লান করি যেহেতু গণপরিবন বন্ধ তাই আমরা সাইকেল নিয়ে বাড়ি যাইতে পারি । যেই ভাবনা সেই কাজ। আমি রুমমেট রতনের সাইকেল ও রাসেল তার সাইকেল নিয়ে ৫ মে বিকাল সাড়ে ৪ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কাম্পাস থেকে যাত্রা শুরু করে রাত ৯ টায় মাওয়া এসে পৌছাই। পথে ইফতারি সেরে নেই।ফেরিপাড় হয়ে কাঠাল পাড়া রাতের খাবার যখন খাই তখন রাত ১১টা বাজে। খেয়ে ভাংগার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেই। ভাংগায় এক্টু রেস্ট নিয়ে টেকেরহাট, মাদারীপুর বড় ভাইর বাসায় এসে পৌছাই রাত ৩.৪১ এ। ফ্রেশ হয়ে তাড়াতাড়ি সেহরি করি। নামাজ পরে রেস্ট নিয়ে ৬ মে দুপুর ১ টা ৩০মিঃ সময় আবার বরিশালের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেই। প্রচন্ড গরমে আবার রোজা রেখে টানা সাইকেলে চালানোর কারনে আমি কিছুটা হাঁটুর ব্যথায় ভুগতে ছিলাম।পরে আস্তে ধীরে বরিশাল আসি তখন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা। পথেই ইফতারি করে নিয়েছিলাম। তিনি আরও বলেন, বরিশাল আমার ভাইয়ের বাসায় অবস্থান করি এবং সেখানে রাত যাপন করে সেহরির খেয়ে আবার যাত্রা শুরু করি ভোর ৪ টা ৩৫ মিঃ। তখনো বাকি আমতলী পর্যন্ত ৭৩ কিলোমিটার। এই পথটাই সবচেয়ে বেশি কষ্টদায়ক ছিল। গরমে পানি পিপাসা লাগতেছিলো। এর মাঝখানে আমার পায়ের ব্যথাটা আবার বেড়ে যায়। তাই কখনো হেটে আবার কখনো চালিয়ে আবার রেস্ট নিয়ে অনেক কষ্টে আমতলী এসে একটা মসজিদের পুকুরের ১২টায় এসে গোসল করি এবং জুম্মার নামাজ সেখানেই সেরে নেই। একটি কথা না বললেই নয়, সাইফুল ইসলাম রাসেল যেহতু সাইক্লিং এ চ্যাম্পিয়ন এবং সুইমিং এ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডদারী তাই ও ফিজিক্যালি ফিট থাকায় সে আমাকে পুরো পথটা উৎসাহ ও সাপোর্ট দিয়েছে যা সত্যিই ভুলার মত না। নামাজ শেষে আবার যাত্রা শুরু করি। তখন আমার বাকি আরো ১৯ কিলো তবে রুমমেটের বাড়ি বরগুনা জেলায়। ওর বাকি ছিলো ১২ কিলো তাই সে আমতলী ফেরিঘাটের দিকে আর আমি কলাপাড়ার পথ ধরে একাই হাটু ব্যথা নিয়ে কলাপাড়ায় পৌছাই। আমার মেঝো ভাই ও তার ছোট্ট ছেলে আমাকে এগিয়ে নিতে আসে অবশেষে আমরা দুজনই বিকেল ৪ টা ৩০ মিঃ সময় বাসায় পৌছাই। বাসায় আসতেই মা-বাবা, ভাবী নিশ্চিন্ত হলো। আমিও রেস্ট নিয়ে ৩০ মিনিট ধরে গোসল সেরে আসরের নামাজ পরে ইফতার করি। এরপর টানা ২ দিন আমাকে রেস্টে থাকতে হয়। তাই কারো সাথে যোগাযোগ করতে পারিনি।

আমাদের ফেসবুক পেজ




Flag Counter


error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!!